তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের "নির্বাসিত উত্তরাধিকারের" প্রত্যাবর্তন
প্রকাশিত : ০০:০০, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০০:০৪, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির বর্তমান কাণ্ডারি তারেক রহমান। এমন এক সময়ে তিনি ফিরলেন যখন ১৭ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাকেই ভাবা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান শুনিয়েছেন তার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জের কথা। আজ ২৮ জানুয়ারি এই নিয়ে এক বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।
টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া সাক্ষাতকারে তারেক রহমান নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, ব্যবসা করতে পারে—এটাই তার প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে বলেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল তাকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে ঠিকই, তবে অতীতের ভার, দলীয় শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সেই আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে, এমন কথাও বলেছে টাইম ম্যাগাজিন।
গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার বিমানবন্দরে যখন তারেক রহমান পা রাখেন, তখন লক্ষ লক্ষ সমর্থক তাকে রাজসিক ভাবে বরণ করে নেয়। তবে এই আনন্দের রেশ কাটার আগেই তিনি হারান তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। শোকাতুর তারেক রহমান টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, “এটি আমার হৃদয়ের জন্য অনেক বড় ভার। তবে মায়ের কাছ থেকে শিখেছি, দায়িত্ব থাকলে তা পালন করতে হয়”।
টাইম ম্যাগাজিন বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান একাধারে মুক্তিদাতা এবং সমালোচকদের চোখে “বিতর্কিত এক রাজপুত্র” । এদিকে এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, তার দল বিএনপির জনসমর্থন এখন প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে তার সাথে জড়িয়ে আছে পুরোনো আমলের দুর্নীতির অভিযোগও, যদিও তারেক রহমান এসকল অভিযোগ খন্ডন করেছেন। বিএনপির সর্বশেষ ২০০১-২০০৬ মেয়াদে দুর্নীতির শীর্ষে থাকার অভিযোগ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে মিস্টার তারেককে বিব্রতকর উপনামে ডাকার বিষয়ও টাইম ম্যাগাজিনে এসেছে। তবে মিস্টার তারেক রহমান তার ইমেজ পুনরুদ্ধারে এখন বদ্ধপরিকর বলে জানান।
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ:
বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের সংকট এবং ১৩.৫ শতাংশ যুব বেকারত্বের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে । তারেক রহমান এসব সমাধানে এক 'টেকনোক্র্যাটিক' বা কারিগরি জ্ঞাননির্ভর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
* ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন ।
* প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন গাছ লাগানো ।
* আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বেসরকারি হাসপাতালের সাথে যৌথ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ।
রাজনৈতিক সংস্কার ও ভূ-রাজনীতি:
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটা ঠিক কি না- এই প্রশ্নের উত্তরে জানান, তিনি নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন । তিনি বলেন, “আজ যদি আপনি একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন, তাহলে কাল আমাকে নিষিদ্ধ করা হবে না—এর নিশ্চয়তা আমি কীভাবে পাব?” তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই, কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী হয়, তবে তাকে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে।”
তবে জুলাই বিপ্লবের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আপসহীন।
শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ভারতে হওয়ায় নয়াদিল্লির সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনকেও বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বিশ্লেষকরা । এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনও তার অগ্রাধিকারে রয়েছে ।
লন্ডনের রিচমন্ড পার্কে হাঁটতে অভ্যস্ত তারেক রহমান এখন ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নিজেকে কিছুটা অবরুদ্ধ বোধ করলেও, জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । স্পাইডারম্যান চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত সংলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “বিরাট ক্ষমতার সাথে আসে বিরাট দায়িত্ব - “With great power comes great responsibility,”- ।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখন তার কাঁধেই, আর সময় বলে দেবে তিনি কতটা সফল হন।
আরও পড়ুন










