ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০, || জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরার মুরারিকাটি ব্রীজ

জুলফিকার আলী,কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: 

প্রকাশিত : ২২:৫৩ ২৬ আগস্ট ২০১৯

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের বেতনা নদীর উপর নির্মিত জনগুরুত্বপুর্ন দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রীজটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে দ্রুত যোগাযোগ ও বানিজ্যিক সুবিধাসহ বিভিন্ন কারনে প্রতিদিন ৫টি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ ঝুকিপুর্ন এই কাঠের ব্রীজ দিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি-এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কাঠের ব্রিজটির পরিবর্তে নতুন পাকা ব্রীজ নির্মানের দাবি করা হলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।  

সোমবার (২৬ আগষ্ট) সকালে সরজমিনে দেখাগেছে- প্রতিদিন এ জরাজীর্ন এই কাঠের ব্রীজ দিয়ে পৌরসদরের দক্ষিণ মুরারকিাটি, গোপিনাথপুর, জেলেপাড়া, পালপাড়া, কর্মকার পাড়া, ঘরচালা, কাশিয়াডাঙ্গা ও কুমারনল গ্রামের শিশু শিক্ষার্থী, ছাত্রছাত্রীসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ উপজেলা ও পৌর সদরে যাতায়াত করে থাকেন। এই ব্রীজটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এলাকাবাসী চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হতে হচ্ছে। কাঠের ব্রীজটির অধিকাংশ স্থানই ভাঙাচোরা। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। লোহার কাঠামোর অবস্থাও একই রকম। তারপরও চরম ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে এসব মানুষেরা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরারিকাটি গ্রামের জমিদার তারক নন্দী এলাকার উন্নয়নে তারক নন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে দক্ষিণ মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ও বেতনা নদীর উপর লোহর ফ্রেম ও কাঠের পাটাতন দিয়ে তারক নন্দী ব্রীজটি (বর্তমানে দক্ষিণ মুরারিকাটি ব্রীজ) নির্মান করে ছিলেন। পরর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উক্ত কাঠের ব্রীজটি পাকা করনের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও আজো কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। 

তবে, এলাকাবাসী চলাচলের জন্য একাধিকবার নিজেদের উদ্যেগে ব্রীজটি সংস্কার করেছেন। এছাড়া কলারোয়া পৌরসভা গঠনের পর ঝুকিপুর্ন কাঠের ব্রিজটির কয়েকটি স্থানে পাটাতন সংস্কার করা হলেও তা বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে ব্রীজটি সংস্কার বা নতুন নির্মান করা না হলে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে প্রাণহানী ঘটতে পারে। 

দক্ষিণ মুরারীকাটি এতিম খানার সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, দ: মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এতিম খানার প্রায় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। তিনি আরো বলেন, এই জরাজীর্ণ ব্রীজের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় দক্ষিণ মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে এবং যাচ্ছে। 

মুরারকিাটি গ্রামের বাসিন্দা ও কলারোয়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান জানান- কলারোয়া পৌর সদরের জনগুরুত্বপুর্ন এই ব্রীজটি সংস্কার না করায় প্রতিদিনই ঘটছে একাধিক দুর্ঘটনা। কিন্তু পৌর কতৃপক্ষ কাঠের ব্রীজটি সংস্কার বা পুন:নির্মানের উদ্যেগ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, গত চার মাস আগে ব্রীজের পটাতন ভেঙ্গে দক্ষিণ মুরারিকাটি গ্রামের ওবাইদুল্লাহ দালাল (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর পায়ের ৪টি আঙ্গুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে সে ঠিকমত হাটা চলা করতে পারছে না। এছাড়া প্রতিদিনই ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। ব্রীজটি দ্রুত সংস্কারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। 

গোপিনাথপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার দে, তপন বিশ্বাস, নির্মল রায়, মন্টু শেখ, আব্দুর রহিমসহ অনেকে জানান-বেতনা নদীর উপর নির্মিত পোপিনাথপুর-দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রীজটি এখন মানুষ মারার ব্রিজে পরিণত হয়েছে। কলারোয়া পৌরসদর থেকে আমাদের পণ্য কিনে আনতে হয়। আর এই ব্রীজ দিয়ে পণ্য পরিবহনে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ব্রীজে বৈদ্যুতিক বাতি না থাকায় রাতের অন্ধকারে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এসব ব্যবসায়ীরা আরো বলেন- স্থানীয় কাউন্সিলরসহ পৌর কতৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও জরাজীর্ণ ব্রীজটি মেরামতের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। অবিলম্বে এলাকাবাসী দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রীজটির পরিবর্তে উক্ত স্থানে নতুন পাকা ব্রিজ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এবিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান-গুরুত্বপুর্ন এই ব্রীজটি দ্রুত সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়রকে অবহিত করেছেন বলে জানান। কলারোয়া পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র  প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান-আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি পোপিনাথপুর সংলগ্ন দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রীজটি ঝুকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। 

তবে, কাঠের ব্রীজটি সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পৌরসভার মাসিক মিটিং-এ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম শাহনেওয়াজ সেলিম জানান-ব্রীজটির বিষয়ে আজ আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, এটি পৌরসদরের একটি গুরুত্বপুর্ন ব্রীজ। বর্তমানে কাঠের ব্রীজটি চরম ঝুকিপুর্ন থাকায় অতিদ্রুত সস্কারের প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তিনি পৌর কতুপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। 

আরকে/


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি