ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

মা মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা

মাশুক রেজার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:৩৬ ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ২৩:৩৭ ১৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানীর ভাষানটেকে কলেজ ছাত্রী ও তার মা কে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মাওলানা মাশুক রেজার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুালের বিচারক হোসনে আরা জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

গত ৩১ অক্টোবর বাসার দরজা ভেঙ্গে মাশুককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আসামীর পক্ষে জামিন আবেদন করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রচি। তিনি আদালতকে বলেন, আসামি রিয়েল এষ্টেট ব্যবসার পাশা-পাশি হজের ব্যবসা করেন। মক্কায় হাজী নিয়ে যাওয়ার কারণে ২৩ জুন মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির থাকতে পারেননি। সে কারণে মামলার প্রধান আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ১৮ দিন ধরে জেল খাটছেন তিনি। ৪০ বছরের বৃদ্ধ মানুষটি জেলে কষ্ট পাচ্ছেন। এ কথা শুনে আদলতে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তি কি ভাবে বৃদ্ধ হলেন, এ নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয় উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে। 

বিচারক হোসনে আরা নথি ঘেঁটে জানতে চান, হজ থেকে ফিরে কেন আসামি মাশুক রেজা আদালতে আত্মসমর্পন করেননি? কেন আসামি হাইকোর্টের দেয়া আগাম জামিনের অপব্যবহার করেছেন? এমন প্রশ্নে মাথা নিচু করে রাখেন আসামির আইনজীবীরা।

এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আজমত হোসেন জামিনের বিরোধীতা করে আদালতকে বলেন, আসামি মাশুক অত্যন্ত দূর্ত প্রকৃতির লোক। আদালতে আত্মসমর্পন না করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে তিনি একটি মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করান। আদালতের প্রতি ন্যূনতম কোন শ্রদ্ধা নেই এই আসামির। এ কারণেই মাসের পর মাস ঘরে বসে থেকে পুলিশ ও আদালতকে তিনি ধোঁকা দিয়েছেন। 

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করতে যায়, তখন আসামি মাশুক তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ, মাসুদ এবং আবুবকরকে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশকে আহত করে, সরকারী কাজে বাধা দেয়। আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ আসামি জামিন পেলে বাদী এবং ভিকটিমের ক্ষতি করবে।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আসামি মাশুক রেজার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন।   
গত ৩১ অক্টোবর, একটি হজ্ব এজেন্সির মালিক ময়নাল হোসেনের দায়ের করা চেক জালিয়াতি এবং মাহাদী হাসানের দায়ের করা নারী নির্যাতনের পৃথক দু’ মামলায় পলাতক আসামি মাশুক রেজাকে গ্রেফতার করতে তার বাসায় যায় ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। এ সময় মাশুক রেজার নির্দেশে তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ, মাসুদ ও আবুবকরের নেতৃত্বে দৃর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই তানজির আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের চার ঘন্টার অভিযানের এক পর্যায়ে বিকেল পৌনে ৪টায় ৭ম তলার দরজা ভেঙে পলাতক আসামি মাওলানা মাশুক রেজাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা ও গ্রেফতারে বাধা দেয়ার অভিযোগে মাওলানা মাশুক কে তার সহযোগী মাসুম ও মাসুদসহ আটক করা হয়। এ সময় ম্যানেজার আবুবকর পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন এসআই তানজীর আহমেদ।

এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি