ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০, || কার্তিক ১২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

মিন্নির জন্য সুখবর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:১৩ ১ অক্টোবর ২০২০ | আপডেট: ১৩:৩৩ ১ অক্টোবর ২০২০

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছিলেন স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলার স্বাক্ষী। পুলিশি তদন্তে হয়ে গেলেন আসামি। গ্রেপ্তারও করা হয় তাকে। এরপর আবার হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি মেলে তার। এবার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হলো তার বিরুদ্ধে। রায়ে মিন্নিকে এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আদালত। ফলে আবারও তার স্থান হলো কারাগারে। তাও আবার কনডেম সেলে। 

এদিকে মিন্নির এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা। মিন্নি কি আসলেই অপরাধি? তার কি সত্যিই ফাঁসি হবে? নাকি উচ্চ আদালতে তিনি খালাস বা কম সাজা ভোগ করবেন? এ রকম নানান প্রশ্নের মধ্যে উঠে এসেছে অসংখ্য অজানা তথ্য। 

এদিকে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ফাঁসির রায় কার্যকর নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে এবং তথ্যে দেখা গেছে- দেশে আজ পর্যন্ত কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়নি! ফলে মিন্নির জন্য এটি একটি সুখবর বটে।

একাধিক গণমাধ্যম কারা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কারাগারগুলোতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আসামির ফাঁসি কার্যকর হলেও কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে গণমাধ্যমকে এক কারারক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আসামির ফাঁসি হয়েছে, এমন কথা তিনি শোনেননি।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসামিদের মধ্যে সবাই হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। কলহের জের ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হত্যার দায়েই ফাঁসির দণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ।

কারা সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁসির আসামিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়। এক কারা কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কারাগারের গেটে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে।

সূত্র জানায়, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই।

এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন কারা ভোগ করার পর বেরিয়ে গেছে, কেউ কেউ মারা গেছে, কারো কারো আপিলে শাস্তি কমেছে।

এদিকে ২০০৭ সালে কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কারাগার উদ্বোধন করা হয়। দেশের প্রতিটি কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ থাকলেও সেখানে কোনো ফাঁসির মঞ্চ নেই। জানা গেছে, অতীতে কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকরের রেকর্ড না থাকায় ফাঁসির মঞ্চ বানানো হয়নি।

কারাগারে ২২ বছর ধরে চাকরি করেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মানুযায়ী ফাঁসির আসামিরা সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা না করলে ফাঁসি থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে, এমন খবরও তিনি শোনেননি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে বিভিন্ন কারাগারের কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কারাগারে আর কোনো নারী ফাঁসির আসামি না থাকায় তিনি একাই হয়েছেন কনডেম সেলের বাসিন্দা।

বরগুনা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফাঁসির আসামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কারাগারের নারী ইউনিটে ১৯ জন বন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো। 

এদিকে রায়ের পর মিন্নির পরিবার ও তার আইনজীবীরা শতভাগ আশাবাদি যে- উচ্চ আদালতে মিন্নির সাজা কমবে অথবা খালাস হয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। তবে যে যাই বলুক সার্বিক পর্যবেক্ষণে মিন্নির জন্য যে একটা সুখবর রয়েছে তা বলাই যায়!
এসএ/
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি