ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০, || আষাঢ় ৩০ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

মৃত্যু সব সময় সব কিছু নিয়ে যায় না, দিয়েও যায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:০৩ ২৯ এপ্রিল ২০২০ | আপডেট: ১৭:০৩ ২৯ এপ্রিল ২০২০

সদ্য প্রয়াত ইরফান খান। যদিও তিনি বলিউডের অভিনেতা। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি। ঢাকাই সিনেমা ‘ডুব’-এ অভিনয় করে দেশের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আপনও হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল ‘ডুব’। বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় একযোগে মুক্তি পায় সিনেমাটি। 

ডুব সিনমাটি পরিচালনা করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির গল্প ও চিত্রনাট্যও করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া, ভারতের এস কে মুভিজ ও ইরফান খান ফিল্মস। মানে অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটির প্রযোজকও ছিলেন ইরফান খান। পরিচালনার সূত্রধরেই ফারুকীর সঙ্গে দারুন বন্ধুত্ব গড়ে উঠে ইরফানের। 

আজ ঘুম থেকে উঠে এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর শুনলেন ফারুকী। গণমাধ্যমকে জানান, দিনটা শুরু হলো অবিশ্বাস্য খারাপ খবর দিয়ে। এতো খারাপ খবর যে কিছুই বলার নেই। খবরটি শুনার পর কিছুক্ষণ নির্বাক হয়েছিলেন তিনি। জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ইচ্ছে হচ্ছিলে উড়ে গিয়ে শেষ দেখাটা দেখে আসতে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।

কোলন ইনফেকশন নিয়ে গতকাল মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুবাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর মারা গেছেন ব্যতিক্রমী ধারার বলিউড-হলিউড অভিনেতা ইরফান খান। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমাতে অভিনয় ও তার প্রতি বিশ্বাস রেখে বিনিয়োগ করেছিলেন ইরফান খান। সে বিশ্বাসের ফল তিনি পেয়েছেন। 

‘ডুব’ চলচ্চিত্রে ইরফান খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, রোকেয়া প্রাচী ও পার্নো মিত্র। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, পরিবারের প্রধান সদস্যের মৃত্যুর পর দুটি পরিবারের অটুট বন্ধনের গল্প। যেখানে একজন মধ্যবয়স্ক লেখক এক তরুণীর প্রেমে পড়েন, যিনি তাঁর মেয়ের বন্ধু। চলচ্চিত্রটির প্রধান ভাষ্য হচ্ছে, মৃত্যু সব সময় সব কিছু নিয়ে যায় না, অনেক সময় কিছু দিয়েও যায়।

সত্যিই তাই। অনেকটা আগেই চলে গেলেন ইরফান। তবে রেখে গেছেন নিজের বেশ কিছু প্রশংসা করার মত কাজ। কিছুদিন আগে মায়ের মৃত্যু। তারপর তিনিও চলে গেলেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন এই তারকা। অনেকটা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তার এই লড়াই ছিল মৃত্যুর সঙ্গে। আজ পরাজিত হলেও কিছু দিয়েগেছেন বার্তা হিসেবে। তার এই লড়াই বুঝিয়ে গেছে যে- শেষ দিন পর্যন্তও মানুষকে চেষ্টা করতে হয় সফলতার আশায়।

এক নজরে ইরফান

শাহাবজাদে ইরফান আলী খান! ইরফান খান নামেই যিনি সবার মাঝে পরিচিত। বলিউডের বক্স অফিসে যখন তিন খানের রাজত্ব, তখন বক্স অফিস না, নিজের অনন্য সাধারণ অভিনয় দিয়ে ইরফান খান নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন বলিউডে। শুধু তাই নয়, বলিউডের প্রাচীর ভেঙ্গে হলিউড এবং ব্রিটিশ ফিল্মেও কাজ করছেন বীর দর্পে। অভিনয় করেছেন বাংলা সিনেমায়।

জয়পুর, রাজস্থান; ১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি। এক মুসলিম পাঠান পরিবারের ঘর আলো করে জন্ম নিল এক পুত্র সন্তান, নাম রাখা হল শাহাবজাদে ইরফান আলী খান। ইরফান খানের বাবার ছিল চাকার ব্যবসা।

বড় হয়ে ইরফান খান প্রথমে ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তারপর ছোটখাট ব্যবসার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি এম.এ কোর্সে ভর্তি হলেন। এম.এ কোর্সে পড়াশোনা চলাকালীন সময়েই ১৯৮৪ সালে ইরফানের কাছে আসে এক সুবর্ণ সুযোগ। তিনি নিউ দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ সহ সুযোগ পেয়ে যান। সেখান থেকে তিনি ড্রামাটিক আর্টসে ডিপ্লোমা করেন।

ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে পাস করার পর ইরফান খান মুম্বাইয়ে চলে এলেন। এখানে এসে তিনি টেলিভিশন সিরিয়াল দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করলেন, যদিও প্রথমদিকে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তিনি প্রথমদিকে টিউশনি করিয়ে এবং মানুষের বাসায় এসি ঠিক করে দিতেন। মুম্বাইয়ে আসার পর তিনি একে একে অভিনয় করলেন চাণৌক্য, ভারাত এক খোঁজ, সারা জাহা হামারা, বানেগী আপনে বাত, চন্দ্রকান্ত, শ্রীকান্ত, আনুগুঞ্জ, স্টার বেস্টসেলারস ও স্পার্স নামক টিভি সিরিয়ালে। এর অনেকগুলোই ছিল দূরদর্শন এবং স্টার প্লাসের মত বড় বড় টিভির সিরিয়াল। স্টারপ্লাসের ‘ডার’ নামক এক সিরিজের প্রধান ভিলেন ছিলেন ইরফান। এতে তিনি কে কে মেননের বিপরীতে এক সাইকো সিরিয়াল কিলারের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এভাবে তিনি থিয়েটার আর টিভি সিরিয়ালের মাঝেই ঘুরপাক খাচ্ছিলেন।

১৯৮৮ সালে এসে তার ক্যারিয়ার নতুন দিকে মোড় নেয়া শুরু করে। ডিরেক্টর মিরা নায়ের তাকে তার সিনেমা সালাম বোম্বেতে একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল তার চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত ফিল্মের এডিটিংয়ে বাদ চলে যায়। সালাম বোম্বে সিনেমাটি পরে ইন্ডিয়া থেকে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। সিনেমাটি ইন্ডিয়ার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতেছিল। তবে সিনেমার এডিটিংয়ে তার চরিত্র বাদ পড়লেও ইরফান খান থেমে থাকলেন না।

১৯৯০-২০০০ এর মাঝে এমন কিছু সিনেমা তিনি আমাদের উপহার দিলেন যা সমালোচকদের মতে বেশ ভালোভাবেই উতরে গিয়েছিল। এর মাঝে ছিল এক ডক্টর কি মউত এবং সাচ আ লং জার্নি সিনেমা দুটি। এছাড়াও আরো কিছু সিনেমায় তিনি এ সময় অভিনয় করেন যা বক্স অফিসে একদমই মুখ থুবরে পড়েছিল।

ইরফান খান তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ভিন্নধর্মী সিনেমা করার চেষ্টা করতে থাকলেও তার ঝুড়িতে একের পর এক ফ্লপ সিনেমা সংযুক্ত হতে থাকল। কিন্তু হঠাৎই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যায়। ব্রিটিশ ফিল্ম ডিরেক্টর আসিফ কাপাডিয়া তাকে তার “দ্য ওয়ারিয়র” সিনেমার জন্য প্রধান চরিত্রে মনোনীত করলেন। আসিফ কাপাডিয়া সে সময় ছিলেন কান ফিল্ম ফেস্টিভালে পুরস্কার পাওয়া পরিচালক। পরবর্তীতে তিনি বাফটা অ্যাওয়ার্ড, অস্কার বা একাডেমী অ্যাওয়ার্ড, এমনকি গ্র্যামী অ্যাওয়ার্ডও জয় করেন। তার নির্মিত “অ্যামি” সিনেমাটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ডকুমেন্টারি ফিল্ম।

ওয়ারিয়র- ছিল ইতিহাসভিত্তিক একটি সিনেমা। সিনেমাটি বানাতে ১১ সপ্তাহ সময় লেগেছিল। সিনেমাটির পুরো শ্যুটিং হয়েছিল ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও রাজস্থানে। ২০০১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে দ্য ওয়ারিয়র মুক্তি পায়। বাফটা অ্যাওয়ার্ডে এটি সেরা ব্রিটিশ ফিল্মের পুরস্কার জিতে নেয়। অস্কারের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে যে সিনেমাটি পাঠানো হবে, তার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও এই সিনেমাটি জায়গা পেয়েছিল। এরপরই ইরফান রাতারাতি এক পরিচিত মুখ হয়ে যান।

২০০৪ এ খান রোড টু লাদাখ নামে একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করেন তিনি। এই শর্টফিল্মটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ প্রশংসিত হয়। এর ফলে এই শর্টফিল্ম থেকেই পরিচালক একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করেন, যাতে ইরফান খান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরে তিনি মকবুল নামে আরেকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। এটি ছিল শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের অ্যাডাপ্টেশান। এতে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এই সিনেমাটিও সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। ২০০৪ সালে বলিউডের হাসিল নামের আরেকটি সিনেমায় তিনি ভিলেনের চরিত্রে অবতীর্ণ হলেন। সিনেমাটিতে তার অভিনয় সমালোচকদের বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দেয়। এই সিনেমার জন্য ইরফান ফিল্মফেয়ার সেরা ভিলেনের পুরস্কার জিতে নেন।

সমালোচকদের পছন্দের সিনেমা বা আর্ট ফিল্মের বাইরে সত্যিকার অর্থেই বলিউডের কোন মুভিতে প্রধান চরিত্রে ইরফান প্রথম অভিনয় করেন ২০০৫ সালে। সিনেমাটির নাম ছিল “রগ”। এই সিনেমায়ও ইরফানের অভিনয় সমালোচকদের মন জয় করে নেয়। এক সমালোচকের মতে, “সিনেমাটিতে ইরফানের চোখ তার শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলেছে।”

২০০৭ সালে অনুরাগ বসুর লাইফ ইন আ মেট্রো সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। সিনেমাটি ইন্ডিয়ার বক্স অফিসে ঝড় তোলে এবং হিট হয়। এই সিনেমার জন্য ইরফান খান ফিল্মফেয়ার, আইফা এবং স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।

২০০৮ সালে ইরফান খান স্লামডগ মিলিয়নিয়ারে এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সিনেমাটি বেস্ট পিকচার, বেস্ট ডিরেক্টরসহ ৮টি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়। এছাড়া ৭টি বাফটা অ্যাওয়ার্ড ও ৪টি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডও আছে এই সিনেমার ঝুড়িতে। এই সিনেমার জন্য তিনি এবং সিনেমার অভিনেতারা স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং পারফর্মেন্স বাই আ কাস্ট ইন আ মোশান পিকচার অ্যাওয়ার্ড জয় করেন।

স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের অস্কারজয়ী পরিচালক ড্যানি বয়েল ইরফান খান সম্বন্ধে বলেছেন, “ইরফান একই অভিনয় বারবার একইরকম নিখুঁতভাবে করতে পারেন। এটা দেখতে পারা সত্যিই অসাধারণ।”

২০০৯ সালে ইরফান খান অ্যাসিড ফ্যাক্টরি নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। এটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ছিল। তিনি সিনেমাটি করার পর বলেছিলেন ভবিষ্যতে আরো এরকম অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করতে চান।

এ বছরই ইরফান নিউইয়র্ক এবং নিউইয়র্ক, আই লাভ ইউ নামের দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইরফান। নিউইয়র্ক সিনেমায় তিনি এফবিআই এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সিনেমাটি বক্স অফিসে হিট হয়। ২৩ কোটি রুপির বাজেটের বিনিময়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ৬৫ কোটি রুপির ব্যবসা করে। কায়রো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল এবং পুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিম ফেস্টিভালেও সিনেমাটির স্ক্রিনিং হয়।

২০১২ সালে হলিউড মুভি দ্য অ্যামাজিং স্পাইডারম্যানে ইরফান খান ড. রাজিত রাথা চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি হলিউডের সিনেমা লাইফ অব পাইয়ের পাই চরিত্রটির পূর্ণবয়স্ক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। লাইফ অব পাই অ্যাকাডেমী অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারে ১১টি ক্যাটাগরীতে মনোনয়ন লাভ করেছিল, যা ২০১২ সালে অন্য যেকোনো সিনেমার চেয়ে বেশি ছিল। চারটি ক্যাটাগরীতে অস্কার পুরস্কারও জিতে নিয়েছিল ছবিটি। তিনটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়ে বেস্ট অরিজিনাল স্কোরের জন্য একটি গোল্ডেন গ্লোব জেতে সিনেমাটি। এছাড়াও এই সিনেমা ২টি ব্রিটিশ অ্যাকাডেমী ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডও জিতেছে।

২০১২ সালে ইরফান খান বলিউডে পান সিং তোমার নামে আরেকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে অসাধারণ প্রশংসা পায়। 

২০১৫ সালে ইরফান খান অমিতাভ বচ্চন ও দীপিকা পাড়ুকোনের সাথে পিকু সিনেমায় প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। ৩৮ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে ১৪১ কোটি রুপির ব্যবসা করে। এভাবেই ইরফান খান শুধু তার অভিনয় দিয়ে সমালোচকদের মন জয় করেননি, বক্স অফিসেও ছোট ছোট সিনেমা দিয়ে রাজত্ব করতে শুরু করলেন।

২০১৫ সালে ইরফান খান জুরাসিক ওয়ার্ল্ড নামের হলিউডের সিনেমাটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। সেই বছরই ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে জাজবা নামের একটি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন যা সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়াতে সমর্থ হয়।

এছাড়াও ২০১৬ সালে ড্যান ব্রাউনের ইনফার্নো বইয়ের কাহিনী অনুকরণে বানানো সিনেমা ইনফার্নোতেও ইরফান খান অভিনয় করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি জাপানিজ টিভি সিরিজে অভিনয় করছেন।

 

এরপরের সবই জানা আছে সবার। ২০১৮ সালে নিউরোঅ্যান্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। এর পর এক বছর বিদেশে থেকে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। মার্চ মাসে মুক্তি পায় ইরফানের ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমা।

তখনও শরীর অসুস্থ ছিল বলে তাকে প্রচারে দেখা যায়নি। যদিও করোনার কবলে কয়েক দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় এই সিনেমার প্রদর্শন।

গত সপ্তাহেই ইন্তেকাল করেন ইরফানের মা সায়েদা বেগম। লকডাউনের কারণে জয়পুরে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি এ অভিনেতা। আজ তিনি চলে গেলেন। সত্যিই তাই- ডুব সিনেমার মতই বলতে হয়- ‘মৃত্যু সব সময় সব কিছু নিয়ে যায় না, অনেক সময় কিছু দিয়েও যায়।’

এসএ/ 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি