ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০, || আষাঢ় ২৬ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

মেঘ-পাহাড়ের সাজেক ভ্যালি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:২৭ ১৬ মে ২০১৭ | আপডেট: ১৬:৪৪ ২৩ মে ২০১৭

প্রকৃতি সব মানুষকেই কম বেশি কাছে টানে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভেসে বেড়াতে চান না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল।প্রকৃতি প্রেমিকদের যেসব বিষয়গুলো আকৃষ্ট করে তার মধ্যে পাহাড় অন্যতম।আর বাংলাদেশের পাহাড়ের সৌন্দর্য লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম।আর এই পার্বত্য চট্টগ্রামের যেসব দর্শনীয় স্থান পর‌্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে তার মধ্যে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি একটি।  

সবুজে ঘেরা পাহাড়ে চূড়ায় মেঘের লুকোচুরি মধ্যে সাজেক ভ্যালির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে আপনি অনুভব করবে প্রাশান্তির নির্মল ছায়া। সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্ব উত্তরের ভারতীয় সীমান্ত মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। আয়তনের দিকে থেকে সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম আর পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।

সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিতে হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে পায়ে হেঁটে সাজেক যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার।

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে সাজেক যেতে হয়। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে ১০নম্বর বাঘাইট হাট পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্প। এখান থেকেই আপনাকে সাকেজ যাওয়ার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ।যা কাসালং নদীর উপরে অবস্থিত। এর পর পড়বে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রু্‌ইলুই পাড়া। সমতল থেকে এই রুইলই পাড়া গ্রামের উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এই গ্রামের আদি জনগোষ্ঠী লুসাইদের বসবাস। এছড়া পাংকুয়া এ ‍ত্রিপুরারও বাস করে। রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছলেই পাবেন সাজেক। সাজেকের বিজিবি ক্যাম্ হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্প। হ্যালিকপ্টার অবতরণের জন্য এখানে হেলিপ্যাডের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সাজেকের রুইলই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর কমলক ঝর্ণা। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। এটিও লসুই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি গ্রাম। কংলক পাড়া থেকে ভারতে লুসাই পাহাড় দেখা যায়। আর এই লুসাই পাহাড় থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি। সাজেক বিজিবি ক্যাম্পের পরে আর কোনো ক্যাম্প না থাকায় নিরাপত্তার কারণে কংরক পড়ায় যাওয়ার অনুমতি মাঝে মাঝে পাওয়া যায় না। সাজেক থেকে ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহারও দেখে আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন?

খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজে ভ্যালিতে যেতে পারেন। একটি গাড়িতে অনায়াসেই ১৫ জন পর‌্যটক যেতে পারবেন। চান্দের গাড়ি আপ-ডাউন রিজার্ভ ভাড়া নিবে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। আর লোকজন কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত বাসে যেতে পারেন। এজন্য জন প্রতি ৪৫ টাকা লাগবে। দীঘিনালা থেকে মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ঘুরে আসতে পারেন। প্রতি মোটর সাইকেলে এক হাজার থেকে এক হাজার দুই শত টাকা পর‌্যন্ত ভাড়া নিয়ে থাকে। সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করে সন্ধ্যার আগেই আপনাকে বাঘাইহাট ক্যাম্প পার হতে হবে।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

খাগড়াছড়ি শহরে বা দীঘিনালাতে থাকার জন্য হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এ সকল হোটেলে আপনি বিভিন্ন দামের রুম ভাড়া নিতে পারবেন। খাওয়া দাওয়ার জন্যও সুব্যবস্থা রয়েছে।  


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি