ঢাকা, সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬

‘মেলা কষ্ট আমগোরে রাস্তাডা হাইরা দেন’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪:০৬, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

‘মাটি কাদার রাস্তা, হেরহম গাড়ি-ঘোড়া চলে না। হুকনার সময় ভ্যান-ট্যান চললেও কাদার সময় কি কিছুই চলে না। আঠাও যায়না। আঙ্গরে খুব কষ্ট। রাস্তাডা হাইরা দেন বাবা।’ একটি রাস্তার জন্য এক বৃদ্ধ নারীর এমন আর্জি।

এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের বেনুটিয়া-আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার মাটির কাদাময়  চড়ম দুর্ভোগের খানাখন্দ সড়কের দুর্দশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপসী গ্রামের মৃত শীতল শেখের স্ত্রী প্রায় ৮০ বছরের নুয়ে পড়া বৃদ্ধা মোছাম্মৎ গোলে বানু। 

তিনি বলেন, ‘রাস্তাটা দ্যাহেন কত কাদা ভেদর। একখান গাড়ি চলে না। চলাফেরা খুবই মুশকিল।
রাস্তাডা হারা ন্যাকবো। খুব জরুরী হারবেন। একটা ডেলিভারির রোগী হাসপাতালে নেয়া যায় না। আমার কানে দুঃখ পাইছি হাসপাতালে যামু যাওয়া পারতেছিনা। মেলা কষ্ট করতেছি। রাস্তাটা হাইরা দেন বাবা।’

গোলে বানুর মতো রাস্তার চরম বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ হতাশা দুর্ভোগ পোহানো এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের।  

জানা যায়, গত প্রায় ৬ বছর আগে ১৩৫ কোটি টাকায় যমুনা ও হুরাসাগর নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুরের পাঁচিল থেকে আহমেদপুর পর্যন্ত ৪০ ফুট প্রস্ত ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন নতুন বাধের রাস্তা নির্মান করা হয়। পরে পাকা না হওয়ায় ২ বছর পর এ রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যায়। এছাড়া মোনাকষা হতে এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া সড়ক প্রশস্ত ও উঁচু করনের অংশ হিসেবে পুরাতন রাস্তা ভেঙে ২৩ কোটি টাকায় ৮ কিলোমিটার মাটির নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ  অনেকটাই শেষ হয়েছে অর্ধবছর আগে। তবে এর মধ্যেই সৈয়দপুর, পাঁচিল, রুপসী, খোকশাবাড়ী সহ বিভিন্ন অংশে খানাকন্দের সৃষ্টি হওয়ায় পুরো ২৯ কিলোমিটার রাস্তা এখন চরম দুর্ভোগের। 

গাড়ী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় হেটে চলাও দুরহ হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায়দিন দৃষ্টিপাতের কারণে এ রাস্তায় এখন অযোগ্য। 

দুর্ভোগ পোহানো মানুষের এ রাস্তাটি এখন কান্নার সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনস্থ এমন রাস্তা আর দেশে আছে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছে জেলার দায়িত্বশীল মহল।

এ ব্যাপারে রূপসী গ্রামের বাবুল হোসেন, সোনাতলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, গোপীনাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী হাজী আবুল হোসেন আক্ষেপ করে জানান, গত দেড় বছর ধরে আমরা যাত্রাপথে চরম বিরম্বনার মধ্যে পড়েছি। সড়ক পথ সহজী করনে হয় দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা রাস্তার বিড়ম্বনার কারণে  পিছিয়ে পড়ছি। 

তারা আরো জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি নামায় রাস্তা পুরোটাই কাদায় খানাখন্দ হয়ে গেছে। গাড়ি তো চলছেই না হাটাও মুশকিল। হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়ে চরম দূরহ হয়ে পড়েছে৷ জরুরী প্রয়োজনে রোগীদেরকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাব তাও যেতে পারছি না। আর কতদিন এই অবস্থা চলবে। কেউ কিছু করছে না।

অপরদিকে শিবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব হোসেন, সোনাতলা গ্রামের সমাজ সেবক হাজী আজহার উদ্দিন, রূপসী গ্রামের হাজী মীর জাহাঙ্গীর হোসেন, সৈয়দপুর গ্রামের শাহরিয়ার ইমন জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ প্রতিদিন এই ২৯ কিলোমিটার কাদামাটির সড়ক দিয়ে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এনায়েতপুর শাহজাদপুর ও সোহাগপুর কাপড়ের হাটে তাঁতিরা যেতেও চরম বীড়ম্বনায় পড়ছে। বর্তমানে আমাদের প্রধানত দাবী জরুরী ভাবে রাস্তাটি মেরামত করার। 

তারা আরো জানান, বর্তমানে রাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন চলতে চায় না। ভ্যান রিক্সা দিয়ে ঘুরে যেতে হলে আগে যেখানে ১৫ টাকা খরচ হতো সেখানে এখন ৬০ টাকা লাগছে। আমরা তিন বছর ধরে শুনছি সায়দাবাদ থেকে পাবনার মাধপুর পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক হবে। কিন্তু তার কোন বাস্তবায়ন দেখছি না। উপরন্ত পাঁকা রাস্তা ভেঙে মাটির রাস্তা করায় আরো ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। তাই দ্রুত এর পরিত্রান চাই। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আন্দোলন করা ছাড়া কোন উপায় নেই। 

এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ও কৈজুরী-বেড়া মাটির বাধটি সম্পৃক্ত করে পাবনা পর্যন্ত ৩টি সড়কের সমন্বয়ে ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকায় ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ও প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় বেড়ায় বড়াল নদীতে ৯শ মিটার দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মান করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সড়ক বিভাগ। এর আগে অধিদপ্তরে পাঠানো নকশার পরিবর্তন করে নতুন করে নকশা প্রনয়ন করা হয়েছে বললেন সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান ফারহান সুমেল। 

তিনি জানান, আমাদের জেলার মধ্যে বর্তমানে অধিকরত গুরুত্ব সহকারে রাস্তাটি মহাসড়কে রূপ দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে অধিদপ্তরে পাঠানো প্রকল্পটি কিছু দিনের মধ্যে অনুমোদন হবে বলে আশা করছি। ২/৩ মাসের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি