ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

যেসব কারণে গ্রীনল্যান্ড কিনতে চান ট্রাম্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১৫ ২২ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১১:১৬ ২২ আগস্ট ২০১৯

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড কিনে নিতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি গোপনে তার সহযোগী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কিন্তু গ্রীনল্যান্ড স্পষ্ট বলেছে যে, ‘এটি বিক্রয়ের জন্য নয়’।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পরিধি বাড়াতে গ্রীনল্যান্ড দ্বীপ কিনে নিতে চান ট্রাম্প। কিন্তু গ্রীনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, ‘দ্বীপটি ব্যবসা করার জন্য উন্মুক্ত, তবে বিক্রয়ের জন্য নয়।’

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর ডেনমার্ক সফরে যাওয়ার কথা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় ডেনমার্ক সফর বাতিল করেন তিনি। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্প টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ডেনমার্ক সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন কারণ ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিক্সেন ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির ব্যাপারে আলোচনার কোনো আগ্রহ দেখাননি’।

বুধবার ডেনিস প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রস্তাব খুবই অদ্ভুত। তাঁর সফর বাতিলে ডেনমার্ক বিব্রত। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি আশা করছেন, এই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে না। ট্রাম্পকে অতিথি হিসেবে বরণ করতে তাঁর দেশ পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিল।

এর আগে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করায়  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের রাজনীতিবিদরা। 

রয়টার্স জানায়, ড্যানিশ পিপলস পার্টির পররাষ্ট্র-বিষয়ক মুখপাত্র ও এমপি সরেন এসপারসন বলেন, তিনি যদি সত্যিই এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন, তাহলে তিনি যে উন্মাদ হয়ে গেছেন, এটা তার চূড়ান্ত প্রমাণ।

ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন টুইট বার্তায় বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি রসিকতা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গ্রীনল্যান্ড খনিজ সম্পদ, বিশুদ্ধ পানি ও বরফ, মাছের মজুদ, সামুদ্রিক খাবার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিশক্তিসহ নানান মূল্যবান সম্পদে ভরপুর। রোমাঞ্চকর পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গ্রীনল্যান্ড সুপরিচিত। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আমাদের দরজা খোলা, কিন্তু বিক্রির জন্য নয়।’ 


যেসব কারণে গ্রীনল্যান্ড কিনতে চায় ট্রাম্প:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন কারণে এই দ্বীপ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। তবে অনেক দিক দিয়েই এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো,   

গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত। দ্বীপটি বরফাচ্ছাদিত।  আট লাখ ৩৬ হাজার ৩৩০ বর্গমাইল আয়তনের গ্রিনল্যান্ড দ্বীপে অধিবাসীর সংখ্যা ৫৬ হাজারের মত। দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং এর খনিজ সম্পদের কারণে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলোর নজর পড়ছে এর ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের নজরের বিষয়েও বিশ্লেষকরা প্রাকৃতিক সম্পদকেই কারণ হিসেবে দেখছেন। গ্রিনল্যান্ড বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। লোহা, আকরিক, সিসা, দস্তা, হিরা, সোনা, ইউরেনিয়াম ও তেল-বিরল সব প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর দ্বীপটি।  বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দ্বীপটির বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুটি বরফ গলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। দ্বীপটির বরফ গলার ফলে সেখানকার ভূমি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অপার সম্ভাবনাও উন্মোচিত হবে। এ কারণেই ট্রাম্প গ্রীনল্যান্ড কেনায় ঝুঁকতে পারেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডেনমার্কের ওই দ্বীপ কেনার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ঠুলে এয়ার বেস নামে একটি সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রিম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কব্যবস্থার একটি অংশ। ইউরোপে সামরিক শক্তি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ড কেনার চিন্তাভাবনাও করতে পারেন ট্রাম্প।

এছাড়া গ্রীনল্যান্ড কেনার চেষ্টার পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে-নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার জাহির করা নিজের দেশের কাছে। কারণ এর আগে  যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে কিনেছিল। সে সময় ৮ লাখ ২৭ হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত এ অঞ্চল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে গুনতে হয়েছিল দেড় কোটি ডলার। ১৮৬৭ সালে রাশিয়া থেকে ৭২ লাখ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কেনার চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক থেকেই ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিনেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার বর্তমান নাম ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড।

তবে গ্রীনল্যান্ড কেনার ধারনা নিয়ে  প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ট্রাম্পের আগে ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১০ কোটি ডলারে এটি কেনার প্রস্তাব করেছিলেন। এর আগে আলাস্কার একটি অংশের সঙ্গে গ্রীনল্যান্ডের কিছু কৌশলগত অংশ বদল করার পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রুম্যান।   

এনএম


 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি