ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২৬

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভোলায় তোফায়েল আহমেদের দাফন সম্পন্ন

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮:২৯, ২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৩, ২ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও হাজারো মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিজ জন্মভূমি ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও তার গ্রামের বাড়ি কোরালিয়া এলাকায় ছিল শোকাহত মানুষের ঢল। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন।

দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে তোফায়েল আহমেদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার ভোলার হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। পরে মরদেহ নেওয়া হয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। 

এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জানাজার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকের জনসমুদ্রে। অনেকেই প্রিয় নেতার মরদেহ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে। পথে বাংলাবাজার এলাকায় তোফায়েল আহমেদের প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধাশ্রমে কিছু সময়ের জন্য মরদেহ রাখা হয়। সেখানে অবস্থানরত শতাধিক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের অভিভাবকতুল্য মানুষটিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনেকের চোখে ছিল প্রিয়জন হারানোর বেদনা।

পরে কোরালিয়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় দেশের রাজনীতি, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভোলা জেলার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে তার অবদান স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ভোলাবাসীর অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রমাণ করেছে, একজন রাজনীতিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। মৃত্যুর পরও সেই ভালোবাসাই শেষ বিদায়ের প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে উঠেছে।

এর আগে সোমবার (০১ জুন) বিকালে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে বিকেল সাড়ে ৩টায় মৃত্যুবরণ করেন তোফায়েল আহমেদ। পরে রাতেই ঢাকায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি