ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রিফাত হত্যার ঘটনায় সাগর গ্রেফতার

প্রকাশিত : ১৩:৪৬ ৩০ জুন ২০১৯

বরগুনার আলোচিত শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এজহারভুক্ত সাগর নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার তাকে বরগুনা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা। এ নিয়ে এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। তবে, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল আসামিরা।

এদিকে, রোববার গ্রেফতার হওয়া মো. সাগরের পুলিশে চাকরি পাওয়ার কথা ছিল। তবে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশে আর চাকরির সুযোগ নেই বলে পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনাকারী গ্রুপের সদস্য মো. সাগর পুলিশের কনস্টেবল পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আজ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ জুন) বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রীর উপস্থিতিতে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েকজন সন্ত্রাসী।

এ ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী একজন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  ছড়িয়ে দিলে দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। দেশব্যাপী নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।

নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির তথ্যমতে, ঘটনার দিন কলেজ থেকে ফেরার পথে জেলার ক্যালিক্স কিন্ডারগার্ডেনের সামনে পৌঁছলে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাদের গতিরোধ করে রিফাতেকে মারধর করে। কিছুক্ষণ পর নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজি হাজির হয়ে রিফাতকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে।

একজনকে নিবৃত্ত করলে অন্যজন কোপাতে থাকে। ফলে, অসংখ্য চাপাতির কোপে রিফাতের শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী রিফাত ফরাজীর হাত থেকে চাপাতি পড়ে গেলে, তারা হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।

এসময় সেখানে উপস্থিত অনেক মানুষ থাকা সত্যেও কেউ মিন্নিকে সহযোগীতা করেনি। ফলে, একাই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যান মিন্নি। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ততোক্ষনে রিফাত না ফেরার দেশে চলে যান।

ওই ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার নিহত রিফাতের বাবা মো. আ. হালিম দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, সাব্বির আহমেদ নয়ন ওফে নয়ন বন্ড (২৫), মো. রিফাত ফরাজী (২৩), মো. রিশান ফরাজী (২০), চন্দন (২১), মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রায়হান (১৯), মো. হাসান (১৯), রিফাত (২০), অলি (২২) ও টিকটক হৃদয় (২১)। বাকি পাঁচ থেকে ছয় জন অজ্ঞাত আসামি।

এর আগেও রিফাত হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চন্দন, মো. হাসান এবং নাজমুল হাসান। এর মধ্যে নাজমুলের নামে কোন মামলা নেই। এর মধ্যে প্রথম দুইজনের ৭ দিন আর নাজমুল হাসানের তিন দিনের রিমান্ডে আছে।

গত শুক্রবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাসেল এ রিমান্ড আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হুমায়ন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আই/

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি