ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সবচেয়ে বেশি নারীর জয় এবারই প্রথম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:১৫ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। যেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মোট ২২ জন নারী ভোটে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

বিজয়ী ২২ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত। দুজন জাতীয় পার্টি ও একজন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি মনোনীত ১০ নারী প্রার্থীর কেউই বিজয়ী হতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ জন, যা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ নারী প্রার্থী। তাই বেশি সংখ্যক নারী নির্বাচিত হবেন সে প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন বিশ্লেষক এবং নারী অধিকার নিয়ে কর্মরতদের। তারা বলছেন, ৬৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে বলা যায়, প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই বিজয়ী হতে পারেননি। নির্বাচিত নারীরা সংসদে গিয়ে দল নয়, নারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন সে প্রত্যাশা করছেন তারা।

এবারও ঘুরেফিরে একই নারী বা পরিচিত মুখগুলোই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এবার নির্বাচিতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে কুমিল্লা ২ আসন থেকে নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ এবং কক্সবাজার ৪ আসন থেকে শাহীন আকতার চৌধুরী নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন। শাহিন আক্তার আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংসদ আবদুর রহমান বদির স্ত্রী। স্বামী মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন করেন। এর বাইরে নির্বাচিত অন্য নারীরা দশম সংসদেও পরিচিত মুখ ছিলেন ।

নির্বাচনে নারীদের অংশ নেওয়া এবং জিতে আসা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় নির্বাচিত নারীর সংখ্যা বাড়বে বলে প্রত্যাশা ছিল। তবে যে নারীরা নির্বাচিত হলেন তাদের সাংসদের দায়িত্বের বাইরে নারী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে নারী আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কারণেই তারা সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই নারী সাংসদদের সংসদে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রথম নারী সাংসদ নির্বাচিত হন তৃতীয় সংসদে ১৯৭৯ সালে। এরপর ১৯৮৬ সালে ৫ জন, ১৯৮৮ সালে ৪ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনগুলোতে মোট কতজন করে নারী প্রার্থী ছিলেন সে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ১৯৯১ সালের হিসাব অনুযায়ী ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন, ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, ২০০১ সালের নির্বাচনে ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নারী নির্বাচিত হয়ে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সংসদে সাংসদ স্বামীর মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে তিনজন, স্বামীর ছেড়ে দেওয়া আসনে ১ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে দেওয়া আসনে একজন সহ মোট ৫ জন নারী বিভিন্ন সময়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে আসেন।

নারী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নতুন সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশ গ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মর্যাদার আসনে বসানোর দিকটিতেও নজর দিতে হবে। আর নির্বাচিত সাংসদেরা সংসদে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন। নারী সাংসদের মনে রাখতে হবে, সংসদে তাঁরা নারী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই দলীয় স্বার্থের বাইরে এই গোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। প্রত্যাশা থাকবে, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যারা নারীর অধিকারকে সম্মান করে না সে ধরনের গোষ্ঠীর সঙ্গে নারী সাংসদেরা কোনো আঁতাত করবেন না। নারী প্রার্থী

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নারীরা হলেন:
গোপালগঞ্জ-৩ :: শেখ হাসিনা
রংপুর-৬ :: শিরীন শারমিন চৌধুরী
গাইবান্ধা-২ :: মাহাবুব আরা বেগম গিনি
শেরপুর-২ :: মতিয়া চৌধুরী
নেত্রকোনা-৪ :: রেবেকা মমিন
সুনামগঞ্জ-২ :: জয়া সেনগুপ্ত
যশোর-৬ :: ইসমাত আরা সাদেক
বাগেরহাট-৩ :: হাবিবুন নাহার
খুলনা-৩ :: মন্নুজান সুফিয়ান
মানিকগঞ্জ-২ :: মমতাজ বেগম
মুন্সিগঞ্জ-২ :: সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি
ঢাকা-১৮ :: সাহারা খাতুন
গাজীপুর-৪ :: সিমিন হোসেন রিমি
গাজীপুর-৫ :: মেহের আফরোজ চুমকি
কুমিল্লা-২ :: সেলিমা আহমেদ মেরী
চাঁদপুর-৩ :: দীপু মনি
নোয়াখালী-৬ :: আয়েশা ফেরদাউস
কক্সবাজার-৪ :: শাহিনা আক্তার চৌধুরী
ফরিদপুর-২ :: সাজেদা চৌধুরী
ফেনী-১ :: শিরীন আখতার (জাসদ)
ময়মনসিংহ-৪ :: রওশন এরশাদ (জাতীয় পার্টি)
বরিশাল-৬ :: নাসরিন জাহান রতনা (জাতীয় পার্টি)

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি