ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০, || জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

প্রশাসনিক পদের তদবিরে ব্যস্ত শিক্ষকরা

সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট চরমে

প্রকাশিত : ১৫:০২ ১৬ জুলাই ২০১৮ | আপডেট: ১৪:২৩ ১৮ জুলাই ২০১৮

শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যথাযথভাবে পাঠদানের অভাবে ভালো প্রস্তুতি ছাড়াই তাঁদের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। এর ফলে যথাযথ একাডেমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে পাশ করে বের হওয়া ডাক্তারদের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকটের নেপথ্যে চারটি কারণ। প্রথমত: মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা পাঠদান থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ সরকারি প্রশাসনিক দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত: ঢাকার বাইরের মেডিকেল কলেজগুলোতে যেতে না চাওয়ার মনোভাব। তৃতীয়ত : উচ্চ শিক্ষা। মেডিকেল কলেজগুলোর বহু শিক্ষক (বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল বিষয়ের) উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটিতে আছেন। তাদের স্থলে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগও হচ্ছে না। চার. বেশিরভাগের মধ্যে ক্লিনিক্যাল কনসালটেন্ট হওয়ার প্রবণতা। বেসিক বিষয় নন-প্র্যাকটিসিং হওয়ায় এ বিষয়ে কেউ উচ্চ শিক্ষাও নিতে চায় না। কিন্তু ক্লিনিক্যাল বিষয়ের চিকিৎসকরা শিক্ষকতা ও প্র্যাকটিস দুটোই করতে পারেন। এ কারণে ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলোর দিকে চিকিৎসকদের নজর বেশি। সবাই কনসালট্যান্ট হতে চান।

এসব কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজেসহ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ সরকারি মেডিকেল কলেজে  শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টদের মধ্যে বেসিক ৯টি বিষয় পড়ানোর মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। কয়েকটি মেডিকেল কলেজে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি অ্যান্ড অবস বিষয়ে কনসালট্যান্টরা পাঠদান করালেও শিশু, চর্ম ও যৌন, সাইকিয়াট্রি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, ইএনটি, অ্যানেসথেশিয়া, ডেন্টাল বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। দেশের বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজেই এসব বিষয়ে পাঠদানের শিক্ষক নেই। এমতাবস্থায় কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে এক বিভাগের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিভাগের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে অনেকটা জোড়াতালি দেওয়ার মতো করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসাবে যারা পাঠদান করাচ্ছেন তাদের একটি বড় অংশ ঢাকায় পোস্টিংয়ের জন্য তদবিরে ব্যস্ত। অনেকেই স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রশাসনিক পদগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন। যারা এখনও পারেন নি তারা অপেক্ষায় আছেন কিভাবে ‘কায়দা’ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পদ বাগিয়ে নেওয়া যায়।

ঢাকার বাইরের মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষকদের প্রথম টার্গেট রাজধানী ও তার আশপাশের মেডিকেল কলেজগুলোয় পোস্টিং নেওয়া। এসব প্রতিষ্ঠানে আসতে পারণে দুটো সুবিধা। এক. ক্লাস শেষে রাজধানীর নামকরা হাসপাতালগুলোয় গলাকাটা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখা। দ্বিতীয়ত : তদবির করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়া। এসব দায়িত্ব পেয়ে গেলে তারা আর একাডেমিক কর্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে চান না।

অনুসন্ধানের দেখা দেখা গেছে, রাজধানীর মধ্যে পাঁচটি মেডিকেল কলেজে বেসিক বিষয় ফার্মাকোলজি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে কোনো শিক্ষকই নেই। ১০ মেডিকেল কলেজে কোনো বিষয়েই অধ্যাপক নেই। কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক পর্যন্ত নেই। আবার কয়েকটি মেডিকেল কলেজে প্রভাষকরাই পাঠদানের গুরু দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের সবচেয়ে বড় মেডিকেল কলেজ ঢাকা মেডিকেলের এমন দশা দেখে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে মন্ত্রণালয় মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতি মাসেই একটি করে সভা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

ঢাকা মেডিকেল ত্বক, যৌন ও এলার্জী বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহীনূর ইসলাম একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, তিনি ৩ বছর ঢাকা মেডিকেলে শিক্ষকতা করেন। পরে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ক্লাস নেবো না অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করব। কোন কিছু ঠিক ভাবে করতে পারি না। এদিকে আমাদের হাসোতালে এমনিতেই শিক্ষক সংকট। নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোন উদ্যোগও দেখিনা। এমন অবস্থায় আমরা দম ফেলার সময় পাচ্ছি না।

এই শিক্ষক জানান, শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য প্রতিমাসে একটি করে সভা করা হয়। কিন্তু সেই সভা থেকে যে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা যথাযথ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া রাজধানীর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে অবস্থানকারী অতিরিক্ত চিকিৎসদের দেশের বিভিন্ন কলেজে পাঠানোর উদ্যোগও সফল হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব  বলেন, বেসিক বিষয়ে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে সরকারকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক পন্থায় এ সংকট দূর করা সম্ভব হবে না। বেসিক বিষয়ে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বেসিক বিষয়ের শিক্ষকদের যেন কোনোভাবেই কর্মকর্তা অথবা ম্যানেজারিয়াল দায়িত্ব না দেওয়া হয়, সরকারকে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এম এ রশিদ  বলেন, বেসিক বিষয়ে পদের বিপরীতে অর্ধেকেরও কম শিক্ষক রয়েছেন। প্রতি বছরই বেসিক বিষয়ের ২৫ থেকে ৩০ জন করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অবসরে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে চিকিৎসকরা আগ্রহী না হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বেসিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে চিকিৎসকরা আগ্রহী হচ্ছেন না কেন?  এমন প্রশ্নের জবাবে  ডা. এম এ রশিদ বলেন, বেসিক বিষয়ের চিকিৎসকরা নন-প্র্যাকটিসিং। কিন্তু ক্লিনিক্যাল বিষয়ের চিকিৎসকরা শিক্ষকতা ও প্র্যাকটিস দুটোই করতে পারেন। শুধু কনসালট্যান্টরা প্র্যাকটিস করতে পারেন। এ কারণে ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলোর দিকে চিকিৎসকদের নজর বেশি। সবাই কনসালট্যান্ট হতে চান। তিনি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে বেসিক বিষয়গুলোর ওপর চিকিৎসকদের আগ্রহ কমতে শুরু করেছে। সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করলেও সেদিকে খেয়াল নেই শিক্ষকদের।

শিক্ষকতা থেকে যারা প্রশাসনিক পদে

নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য কয়েকজন শিক্ষক লবিং-তদবির করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর থেকে শুরু করে বড় বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। পদ পাওয়াদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বায়োকেমিস্ট্রির শিক্ষক। তার মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর কথা। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ তিনি মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও বায়োকেমিস্ট্রির শিক্ষক অধ্যাপক ডা. নাসিমা বেগমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন চোখের চিকিৎসক ও শিক্ষক। চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের চিকিৎসক ও শিক্ষককে প্রথমে নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের পরিচালক করা হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক করা হয়। বিভিন্ন কারণে তিনি পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে পদে বহাল রাখে।

ডা. কাজী জাহাঙ্গীরকে অধিদফরের হাসপাতাল শাখার লাইন ডিরেক্টর করা হয়েছে। তিনি জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) এপিমেডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় দেড় বছর আগে তাকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনাকে অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর করা হয়েছে। তিনি মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক। একই সময় হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলামকে মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন শেষে তাকে প্রথমে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক করা হয়। পরে আবার টিবি ও এসটিডি/এইডস প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর করা হয়েছে। তিনি প্যাথলজির শিক্ষক।

সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসেমকে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর করা হয়েছে। ওই পদে দায়িত্ব পালনকালেই তাকে আবার চলতি দায়িত্বে অধ্যাপক করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে দেশের ১৮টি মেডিকেল কলেজে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত বছর ওইসব মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। এরপর জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালট্যান্টদের দিয়ে মেডিকেল কলেজে বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশও জারি করেছিল। আদেশে মুগদা, ফদিরপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, পাবনা, জামালপুর, টাঙ্গাইল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, শহীদ এম মনসুর আলী, মানিকগঞ্জ, রাঙামাটি, পটুয়াখালী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শেখ সায়েরা খাতুন, আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজে সংশ্নিষ্ট হাসপাতালের কনসালট্যান্টরা শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান করবেন বলে জানানো হয়।

শিক্ষক সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না জানতে চাইলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ টেলিফোনে একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এবিষয় একটি প্রস্তাবনাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া এই বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যে দুইদফাই বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তেমন কোনো আগ্রহ দেখনি। শিক্ষক সংকট সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়অ হয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন যে, পদক্ষেপগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা দ্রুতই কেটে যাবে।

টিআর/ এআর

 

 

 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি