ঢাকা, রবিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সিডরের এক যুগ ও শরণখোলায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্বপ্নের বেড়িবাঁধ

এইচ এম মইনুল ইসলাম, বাগেরহাট

প্রকাশিত : ০৯:০১ ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ০৯:০২ ১৫ নভেম্বর ২০১৯

বাগেরহাটের শরণখোলায় এক যুগ আগে এই দিনে সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিল। বিপুল পরিমাণ জান-মালের ক্ষতি হয়েছিল। সরকারি হিসেবে ওই একদিনে প্রায় ৯০৮ জন মানুষ মারা গিয়েছিল।

সিডরের পরে সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলায় বহুমুখী উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ওই এলাকার লোকদের একমাত্র দাবি ছিল বলেশ্বর নদীর পাশ থেকে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকার গত ২০১৫ সালে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি) নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়।

জমি অধিগ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারী বেড়িবাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছয় মাস পার হলেও বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার ফলে সিডরের একযুগ পড়েও আতঙ্ক কাটেনি, সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলাবাসীর।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগামী অর্থবছরের জুন মাস নাগাদ তারা পুরো কাজ শেষ করতে পারবেন। শরণখোলাবাসীর দুঃখের দিন শেষ হবে।

এ বাঁধের সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হচ্ছে, শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, গাবতলা ও দক্ষিন সাউথখালী এলাকা সংশ্লিষ্ট বলেশ্বর নদী সংলগ্ন বাঁধ। এই জায়গাগুলো থেকে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধটি বারবার ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসী সব সময় আতঙ্কে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, বলেশ্বর নদী শাসন না করে ওই স্থানে বাঁধ নির্মাণ করলে বাঁধ কখনও টেকানো সম্ভব নয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, নদী শাসনের জন্য বরাদ্দ না থাকায় নদী শাসন সম্ভব হচ্ছে না।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন, এক যুগ আগের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসের কথা মনে পড়লে আঁতকে উঠি। জলোচ্ছ্বাসে সাউথখালী ইউনিয়নের অনেক মানুষ মারা যায়। তারপর থেকে আমাদের দাবি ছিল, এই এলাকায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। সরকার আমাদেরকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ কাজের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে তবে কাজ এখনও চলছে। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই এই বাঁধটি যেন নদী শাসন করে টেকসই করা হয়।

শরণখোলার বগী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডরে অনেককে হারিয়েছি। ভবিষ্যতে কোনও দূর্যোগে আর কাউকে হারাতে চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বাঁধটির কাজ সম্পন্ন করে আমাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে দিক।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৭ সালের সিডরে আমাদের শরণখোলায় সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনে দাবি এই বেড়িবাঁধ। এটি নির্মাণ করছে সরকার। বাঁধটি নদী শাসন করে যেন টেকসই করা হয় সেই দাবি জানাই।

উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, উপকূলের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে সরকার বাঁধ উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। শরণখোলা উপজেলার ৩৫/১ পোল্ডারের ৬২ কিলোমিটার অংশের বেড়িবাঁধ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা এই বাঁধের ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেছি। আগামী ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ এই বাঁধের কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। এটি নির্মাণ হলে ওই এলাকার মানুষ ঝড় জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি