ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯, || কার্তিক ৩০ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সেই ডিসির চাকরি থাকা না থাকা নিয়ে যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২০ ২৭ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১০:২২ ২৭ আগস্ট ২০১৯

জামালপুরের বিতর্কিত সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। নানা আলোচনা আর সমালোচনা চলতে থাকে দেশজুড়ে। 

আলোচিত সেই ভিডিওতে যে কক্ষটি দেখা গেছে সেটিকে ডিসির কার্যালয় সংলগ্ন খাস কামরা বলে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশের অনেক সরকারি দপ্তরেই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য খাস কামরার বন্দোবস্ত আছে। ভিডিওর শেষ পর্যায়ে খাস কামরার বিছানায় দুজনকে অন্তরঙ্গ মূহুর্তে দেখা যায়।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ভিডিও কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ওএসডি কর্মকর্তা আহমেদ কবীরকে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হতে পারে।

এমনকি নিচের পদেও নামিয়ে দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর রোববার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয় জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরকে। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমান।

অতীতেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হলেও কাউকে তেমন কোনো শাস্তি পেতে দেখা যায়নি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি, শাস্তি হবে ইনশাআল্লাহ। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা হয়নি।

শফিউল আলম বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত না হয় তবে কাউকে শাস্তি দেয়া কঠিন। আমরা এ জন্য কমিটি করেছি। কমিটি দেখবে এটা। অবজেক্টটিভলি দেখবে, নিরপেক্ষভাবে দেখবে। টেকনিক্যালি এর মধ্যে যদি কোনো ম্যানিপুলেশন থাকে তারা সেটাও যাচাই করবে এক্সপার্ট দিয়ে। সেজন্য এক্সপার্টও সঙ্গে রাখা হয়েছে। যদি দোষী সাব্যস্ত হয় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল রুল যেটা, সেখানে ডিসমিসাল হতে পারে চাকরি থেকে (চাকরিচ্যুতি), রিমুভাল হতে পারে অথবা নিচের পদে নামিয়ে দেয়া হতে পারে। গুরুদণ্ড হতে পারে।

কার্যপরিধির বাইরেও যদি কোনো ইনফরমেশন চলে আসে তবে তদন্ত কমিটি বলতে পারে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগও আছে। তদন্তের ভিত্তিতে আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এরআগে ওই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর গত শনিবার আহমেদ কবীরকে ওএসডি করার সিদ্ধান্তের কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এরপর রোববার আহমেদ কবীরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এদিনই পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হককে জামালপুরের নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমীন সাধনা রোববার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও সোমবার সকালে তিনি ছুটির আবেদন নিয়ে অফিসে উপস্থিত হন। তিনি শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে তিন দিনের ছুটির আবেদন করেছেন।

এ সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সানজিদা। পরে সহকর্মীরা তার চোখে মুখে পানি দিলে জ্ঞান ফিরে আসে।  

এ সময় সাধনা সাংবাদিকদের নিকট আকুতি-মিনতি করে জানান, ‘আমি বাঁচতে চাই না, আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচান। এসব কিভাবে হল আমি কিছুই জানি না। 

বিচার চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাধনা বলেন, আমি বিচার চাই তবে স্যারের কোনো দোষ নাই। 

এরপর সাধনা অফিসে একটি ছুটির দরখাস্ত দিয়ে চলে যান।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি