ঢাকা, বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২, || মাঘ ৫ ১৪২৮

কোভিড মহামারীর শেষ কোন পথে?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫০, ১০ নভেম্বর ২০২১ | আপডেট : ০৮:৫৭, ১০ নভেম্বর ২০২১

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারী কিছু স্তিমিত হলেও এখনও মানুষের প্রাণ সংহার করে চলেছে। পুরো বিশ্বের কথা বাদ, মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রও এই বিপর্যয় পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

কিন্তু একটা সময়ে তো ঠিকই শেষ হবে মহামারী; যখন আক্রান্তের সংখ্যা থাকবে না নিয়ন্ত্রণহীন; হাসপাতালে থাকবে না রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এরই মধ্যে অনেক বিশেষজ্ঞ বলাও শুরু করেছেন, ধীরে ধীরে করোনাভাইরাস মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জায় পরিণত হবে। কিন্তু সেটা কখন, কীভাবে হবে, তা এখনও অজানা। 

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিষয়ক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের টিকা সম্পর্কিত পরামর্শক কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরনল্ড মন্টোর সাফ কথা- “কোনটা মহামারী আর কোনটা অতিমারী, তা পরিমাপ করার মতো কিছু নেই; সবই চোখে দেখার বিষয়, আরা সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়।

“তাই এগুলো (মহামারী, অতিমারী) কোনো নিয়ম মেনে চলে না। মূলত (মহামারীর) প্রাদুর্ভাব কিভাবে আপনি নিয়ন্ত্রণ করবেন, তারওপরই নির্ভর করতে হবে। এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) একটা পার্থক্য হলো- আমাদের টিকাগুলো ধারনার চেয়েও বেশি কার্যকর।” 

ড. মন্টোর কথা ধর্তব্যে নিলে সুখের খবর হচ্ছে টিকার শক্তি। বিপরীতি দিকে খারাপ খবর হলো- ভাইরাসের ধরন বদল ও বিকাশের শক্তি। 

মন্টোর ভাষায়, কোভিড মহামারীর গতিপথ কেমন হবে কিংবা ডেল্টার মতো করোনাভাইরাসের অন্য কোনো ধরন আবার পরিস্থিতি পাল্টে দেবে কিনা, তা নিয়ে কারো পক্ষেই কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব না। 

“(ভাইরাসের) বিভিন্ন ধরনের কারণে সংক্রমণের যে চিত্র, তার ওপর ভিত্তি করে বলতে পারি এটা ধরনগুলোর একটা যাত্রা। আমরা এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাসের একটি ধরনের সংক্রমণের বেশি গভিরতা দেখতে পাচ্ছি। ফলে মহামারীর সমাপ্তি ঘোষণা করাটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ ভাইরাস ছড়ানোর পুরো প্রক্রিয়াটাই বদলে গেছে। তাছাড়া এখনও সম্ভবত এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো মহামারীর ঢেউ লাগেনি,” বলেন ড. মন্টো। 

অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে
মন্টোর মতো বেশ কয়েকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের ধারণা, সাধারণ ফ্লুর মতো ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাস ‘সার্স-কভ-২’ সংক্রমণের নতুন নতুন ধরন সম্পর্কেও জানা সম্ভব হবে। 

মন্টোর ভাষ্য, শ্বাসযন্ত্র আক্রান্ত করে এমন ভাইরাসগুলোর আচরণ অনেকটা মৌসুমী ভাইরাসের মতোই। আর করানাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে মৌসুমী ফ্লুর কিছুটা মিলও আছে। সার্স-কভ-২ একই রকম আচরণ করতেও পারে বলে মনে করেন তিনি।

তাই এই মহামারী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ- এনডেমিক পরিস্থিতির জন্য আমাদের এখন দম আটকে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।  

যখন একটি রোগ কোনো জনগোষ্ঠির মধ্যে থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে না, সেই অবস্থাকে বলা হয় এনডেমিক। 

গতবছর করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এটিও হতে যাচ্ছে আরেকটি এনডেমিক ভাইরাস, যা কখনও পুরোপুরি নির্মূল হবে না। 

যেতে হবে আরো পথ
বোস্টন কলেজের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ড. ফিলিপ ল্যান্ড্রিগ্যানের মতে, এনডেমিক পর্যায়ে যেতে হলে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, আরো বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এখনও অনেক কাজ করতে হবে। এজন্য শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের টিকা দিতে বলছে সিডিসি। এছাড়া প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেমন- মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে ঘরে থাকা- এসব স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আরো বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকেও টিকার আওতায় আনার কথাও বলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইটা প্রতিবছর সাধারণ ফ্লুর সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো রূপ পেতে যাচ্ছে।

কোন কোন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সৌসুমী ফ্লুর কারণ এবং এসব রোগে আক্রান্তের কোন পর্যায়ে রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছে কিংবা মারা যাচ্ছে, সেসব তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছে সিডিসি। উদ্দেশ্য হচ্ছে করোনাভাইরাস মহামারী যখন এনডেমিক পর্যায়ে যাবে, তখন যাতে জীবাণু শনাক্তে একই ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।

কাইজার পার্মানেন্টের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. স্টিফেন পারোডি বলেন, “লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে এবং আমার মনে হয় ২০২২ সাল জুড়েই এই প্রক্রিয়া চলবে। কিন্তু অনেক এলাকায় এখনো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ফলে যাত্রাটা দীর্ঘ হতে যাচ্ছে।”

ফ্লু নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন হলেও প্রতিবছরই এর বিরুদ্ধে লড়তে হয়।

“আমরা জানি সংক্রমণ নিয়মিতভাবেই চলবে। ফ্লু নিয়ে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। ফলে আমরা জানি এদের আচরণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এটি পুরোপুরি একটি অভিনব জীবাণুর বিকাশমান পরিস্থিতি,” বলেন ড. মন্টো।
সূত্র: সিএনএন
এএইচএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি