ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪২ বছর পর মা-বাবার খোঁজে বাংলাদেশে সেলিনা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:২৪, ১০ অক্টোবর ২০১৯

Ekushey Television Ltd.

দীর্ঘ ৪২ বছর পর বাবা-মায়ের খোঁজে বাংলাদেশে এসেছেন সেলিনা ম্যাকডোনাল্ড। ছুটে গিয়েছেন নিজের জন্মস্থান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রামে। তবুও খুঁজে পেলেন না বহু কাঙ্ক্ষিত সেই জন্মদাতা বাবা-মাকে। খুঁজে না পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেলিনা। এ সময় গ্রামের মেয়েদের জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই জার্মান নাগরিক। জানালেন, বাবা-মায়ের খোঁজে আবারও নিজ গ্রামে আসবেন তিনি। 

শিশুকালে মাত্র ৫ দিন বয়সেই তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তার বাবা-মা। সেসময় তাকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকার শিশু অধিকার বিষয়ক সংগঠন। সেখান থেকে ম্যাকডোনাল্ড নামে এক জার্মান দম্পতির দত্তক হিসেবে জার্মানে চলে যান এবং সেখানেই বড় হন সেলিনা ম্যাকডোনাল্ড। তারপর চলে গেছে ৪২টি বছর। কিন্তু এখনও বাবা-মাকে ভুলতে পারেননি তিনি। 

সেলিনা জানান, তার বাবা-মা হয়তো দারিদ্র্যের কারণে মাত্র পাঁচ দিন বয়সে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান। তিনি জানান, একটি ধানক্ষেতের পাশে পড়ে ছিলেন তিনি। এ সময় গ্রামবাসী তাকে কুড়িয়ে পাওয়ার পর নেয়া হয় ঢাকার একটি শিশু অধিকার সংগঠনের কাছে। সেখানে ছিলেন ৬ মাস। এরপর এক জার্মান দম্পত্তি তাকে দত্তক নেন।

জার্মানে বেড়ে ওঠা সেলিনা ম্যাকডোনাল্ড এখন সাবলম্বী। তিনি জার্মানিতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং স্টেফান নামে এক জার্মান নাগরিককে বিয়ে করেন। যদিও তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তার। তবে তাদের অ্যাঞ্জেলা (২২) নামে একটি মেয়ে ও ফিন (১৫) নামে একটি ছেলে রয়েছে। এক সময় পালক বাবা-মার কাছে জানতে পারেন তার আসল পরিচয়। এরপরই ছুটে আসেন জামালপুরে।

সেলিনা বলেন, জার্মানীতে আমি স্কুলে গিয়েছি, জব করছি এবং এখন আমার দুই সন্তান। আমি আমার আসল বাবা-মাকে খুঁজতে বাংলাদেশের গাইতাপাড়া এসেছি। মানুষের কাছে অনেক জিজ্ঞাসা করেছি। কিন্তু কেউ আমার বাবা মার খোঁজ দিতে পারেননি। যদি কখনও বাবা-মার খোঁজ পান সেলিনা জানেন না কি করবেন। এতটুকু জানেন হয়তো তখন কোন ভাষা থাকবে না মুখে।

সেলিনা আরও জানান, জন্মস্থানের প্রতি মায়ার কারণে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। এবার আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেলেও আবারও তিনি বাংলাদেশে আসবেন। আগামী দুই সপ্তাহ তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে সুন্দরবনসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করবেন। তারপর তার কর্মস্থল জার্মানিতে ফিরে যাবেন। সেখানে তিনি একটি হাসপাতালে চাকরি করেন।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি