ঢাকা, শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

‘সুদ কারবারিদের চাপে’ চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা, যা লেখা ছিল চিরকুটে

ধামরাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯:৩৭, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৩, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ধামরাইয়ে সুদের টাকার চাপের কারণে চার পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাইশাকান্দা এলাকায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সুমন রাজবংশী অপু (৩৬) উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাইশাকান্দা গ্রামের মাঝি পাড়া এলাকার মৃত আনন্দ রাজবংশীর ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে সুদে টাকা নেন অপু। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে সুদের টাকা জন্য মুঠোফোন চাপ দেয় জাহাঙ্গীর।  সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে সকালে আত্মহত্যা করে অপু। পরিবারের দাবি, জাহাঙ্গীর টাকার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়াসহ শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করত।

স্থানীয়রা আরও জানায়, জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কিনেছিলেন অটো রিক্সা। কিন্তু সুদ দিতে গিয়ে বিক্রি করেছেন সেই অটো। সুদের ঋণ পরিশোধ করতে বিক্রি করেছেন জমি তবু দেনা শোধ না হওয়ায় এমন পথ বেছে নেন তিনি।

যা লিখা ছিলো সেই চিরকুটে: 

ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের কাছ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। 

ওই চিরকুটে সুমন রাজবংশী অপু লিখেছেন, আমি মানুষ হইয়া জন্ম লইয়া মানুষের কিছুই করতে পারলাম না। অথচ সেই মানুষের কারণেই আজ আমাকে আত্মহত্যা করতে হল। আমি ছোট কাল থেকেই মানুষ হয়ে উঠতে পারি নাই। ফুলমালা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসতাম তাই তোমাকে আমি অনেক শাসন করেছি। তোমাকে অনেক মারধর করেছি। তুমি আমাকে মাফ করে দিও, আমার ছেলে মেয়ে কে তুমি দেখো,পাপড়িকে মারধর করিও না। ওকে বুঝিয়ে বললে ও বুঝবে। অর্পণ, পাপড়ি ভাল মন লেখা পড়া করিও তোমরা মায়ের কথা মন দিয়ে শুনিও । আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। 

তিনি আরও লিখেছেন, আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র জাহাঙ্গীর দায়ী। ও আমাকে টাকার লোভ দেখিয়ে সুদের সুদ চক্রবর্তী সুদে আমার ধান ক্ষেত ও রাস্তার জমি লিখে নিয়েছে। কোনো সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া এখন আমার বাড়ি ও লিখে নিতে চায় আমার বাড়ির দলিল ও আইডি কার্ড জব্দ করেছে। আমাকে টাকা পয়সা দেয়নি। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র জাহাঙ্গীর দায়ী। আমি ওর কঠিন বিচার চাই, আমার জিবনটা ও ধ্বংস করে দিয়েছে।

মৃতের মা বলেন, বিহানে (সকালে) উইঠ্যা দেহি ঝুইলা রইছে। জাহাঙ্গীর আর শাহীন তাদের কাছ থিকা সুদে টেকা নিছিলো। হেই চাপেই ফাঁস দিছে। পুলার আইডি কার্ড আর জমির দলিল নিয়া গেছে জাহাঙ্গীর আর শাহিন। 

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ এবং সাথে থাকা কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি