প্রস্তুত শোলাকিয়া, থাকছে চারস্তরের নিরাপত্তা
প্রকাশিত : ১২:৫৬, ১৯ মার্চ ২০২৬
দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া। ঐতিহ্যবাহী এ মাঠে এবারও ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব আয়োজন।
ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়।
বড় জামাতে অংশ নিলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এ বিশ্বাস থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। কয়েক লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন সেখানে। জামাতের সময় পুরো এলাকা জমসমুদ্রে পরিণত হয়। ফলে শোলাকিয়ার ঈদ জামাত কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে বাড়তি আনন্দ ও ভিন্ন তাৎপর্য হয়ে ধরা দেয়।
মাঠে দাগকাটা, বালু ফেলা ও দেয়াল রঙ করার কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার হয়েছে ওজুখানা ও টয়লেট। মাইক বসানো, বিদ্যুতের লাইন টানা, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষের দিকে। মাঠের শোভাবর্ধনের কাজও গুছিয়ে এনেছে আয়োজকরা।
এবারের ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
নারীদের জন্যও আলাদা জামাতের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুটি জামাতেই শুরু হবে সকাল ১০টায়। আর এসব প্রস্তুতি দেখতে কৌতুহল নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন মুসল্লিরা।
প্রস্তুতি দেখতে আসা মুসুল্লীরা জানান, বরাবরই মতো এবারও আনন্দঘন পরিবেশে আমরা ঈদ জামাতের নামাজ আদায় করতে পারবো। তারা আশা করছেন এবার ঈদুল ফিতরেও লাখ লাখ মুসুল্লীর সমাগম ঘটবে এই শোলাকিয়া ময়দানে। তবে তাদের মধ্যে কিছুটা হতাশাও আছে মাঠকে ঘিরে। বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও শোলাকিয়া মাঠ পায়নি তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া। তাই তারা বর্তমান সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে এ মাঠের উন্নয়ন ও সৌন্দয্য বর্ধনের দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেরপুর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম জামাতের প্রস্তুতির দেখতে বেশ কয়েকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এবার নিরাপত্তাসহ জামাতের সব প্রস্তুতি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন মুসুল্লীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আশা করছি আগামী ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়া মাঠে উন্নয়নের সেই সৌন্দয্য ফুটে উঠবে।
পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জামাত নিশ্চিতে মাঠে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়। ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার কথা মাথায় রেখে এবারও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরইমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো মাঠ ও আশপাশ।
জামাতের সময় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, ১১০০ পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোষাকে নজরদারি করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, ঈদ জামাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ড্রোন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকে পুলিশের ড্রোন।
তাছাড়া এবার সেনাবাহিনীও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকছে।
উল্লেখ্য, শোলাকিয়ার ঈদগাহের যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। তবে ১৮২৮ সালে প্রথম আনুমানিক সোয়া লাখ লোক শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তখন থেকে এই ঈদগাহসহ পুরো এলাকার নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’।
রেওয়াজ অনুযায়ী, বন্দুকের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর সঙ্কেত দেওয়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ৩ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি শটগানের গুলি ফোটানো হয়।
এএইচ
আরও পড়ুন










