কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান
প্রকাশিত : ১৪:৪৯, ৩ অক্টোবর ২০২৬
কড়া নিরাপত্তায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের লরি বহর। ৪টি লরিতে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু হয়ে সড়কপথে রূপপুরের প্রকল্পে এই ইউরেনিয়াম নেওয়া হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িবহরটি সফলভাবে প্রকল্প অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের অতিক্রম করে হাটিকুমরুলের পাঁচলিয়া আন্তঃনগর ট্রাক বিশ্রামগারে যাত্রা বিরতি দেয়। এরপর আবার পাবনার প্রকল্প এলাকার দিকে রওনা হয় বলে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. মাহাবুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী লরিগুলো সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নিয়োজিত ছিল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া পুরো মহাসড়ক জুড়ে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
লরিগুলো সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাঁচলিয়ার আন্তঃনগর ট্রাক বিশ্রামাগারে এসে ৫০ মিনিট যাত্রা বিরতির পর আবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিশেষ উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা তেজস্ক্রিয় এই জ্বালানির চালানটি বুঝে নেন।
প্রকল্পের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৯টি পৃথক ফ্লাইটের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জ্বালানি বহনকারী এসব চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত অতিক্রম করে আকাশপথে ঢাকায় আসবে। পরবর্তীতে এসব ইউরেনিয়াম একইভাবে কড়া নিরাপত্তায় পাবনার রূপপুরে প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় দেশের সবচেয়ে বড় এই কম-কার্বন বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ইউরেনিয়ামের নতুন চালান পৌঁছানো এবং ভালভ সমস্যার সফল সমাধান বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএইচ
আরও পড়ুন










