ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, || আশ্বিন ৪ ১৪২৮

পলি জমে কার্যকারিতা হারাচ্ছে মুহুরী সেচ প্রকল্প

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৪৫, ৫ জুন ২০২১

পলি জমে প্রকল্প গেটের ৭৫ ভাগ ভরাট হয়ে গেছে। ছবি: একুশে টেলিভিশন

পলি জমে প্রকল্প গেটের ৭৫ ভাগ ভরাট হয়ে গেছে। ছবি: একুশে টেলিভিশন

চট্টগ্রাম ও ফেনী সীমান্তবর্তী এলাকার ফেনী নদীতে বাস্তবায়ন হওয়া মুহুরী সেচ প্রকল্প কার্যকারিতা হারাচ্ছে। নদীর ভাটি এলাকায় জমে ওঠা পলির স্তরের কারণে স্বাভাবিক গতি বদলে যাচ্ছে। ফলে ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের ভাটিতে প্রায় ৭শ’ বর্গমিটার জুড়ে পলি জমে ৭৫ ভাগ ভরাট হয়ে গেছে। এতে নদীর পানি প্রবাহের পথ বদলে একদিকে ছোট ছোট চর জেগে উঠছে, অন্যদিকে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আবার সেচ প্রকল্পের বেশ কিছু স্লুইজগেট ইতোমধ্যে পলি জমার কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বলছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে এখানে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ হারাবে ভিটেবাড়ি, কৃষক হারাবে জমি, নদী গর্ভে বিলীন হবে শত শত মৎস্য ঘের। ব্যাহত হবে দেশের সর্ববৃহৎ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের উন্নয়ন কাজ।

মিরসরাইয়ের ওচমানপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা দুখু মিয়া জানান, ২০২০ সালের শুকনো মৌসুমে প্রকল্পের মুখে বালি ও মাটি জমাট শুরু হয়। ওই বছর বর্ষা শুরু হলে ভাঙ্গন দেখা দেয়। যা গত ৩৫ বছরেও এখানকার মানুষ দেখেনি। ইতিমধ্যে শতাধিক মৎস্য ঘের নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।

মিরসরাইয়ের ওচমানপুর ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমরা নদীর আচরণ বুঝি। জমা হওয়া বালু মাটি খনন করলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। গত ৩৫ বছর এখানে আমরা ভাঙ্গন দেখিনি। এখন বালু জমার কারণে ভাঙ্গন হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘খুব সহসা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। এখানকার জনবসতি, মৎস্য প্রকল্প ও বাস্তবায়নাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ ক্ষতির মুখে পড়বে।’

মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙ্গনের বিষয়টি নিয়ে আমি অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেছি। তারা এ ধরণের প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। পরে আমি বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীকে ফোন দিলে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর মিরসরাই অঞ্চলের প্রকল্প কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরুন নবী জানান, নদীর ভাটি এলাকায় জমে থাকা পলি ড্রেজিংয়ের জন্যে আমরা আরও আগে উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটিও হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ না থাকলে এটির কার্যক্রম আরও এগিয়ে যেতো।

ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস নদীর সম্মিলিত পানি প্রবাহকে সেচ কাজে লাগাতে এবং ফেনী, সোনাগাজী ও মিরসরাই এলাকার বিস্তৃর্ণ জনপদকে বন্যা ও ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে বাস্তবায়ন করা হয় মুহুরী সেচ প্রকল্প। সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪০টি স্লুইজগেট বিশিষ্ট এ প্রকল্পটি ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে এটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়।

প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে মুহুরী সেচ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই, ফেনী ও সোনাগাজী উপজেলার ২৭.১২৫ হেক্টর জমি ইরি চাষের আওতায় আসে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভরা বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে পলি জমা এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা না হলে নদীর উজান এলাকার গ্রামের পর গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিপরীত এলাকার জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকবে।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি