ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, || অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নকল সারের চালান ধরিয়ে দিলেন কৃষক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:০২, ১৮ অক্টোবর ২০২১

নকল সার মজুত করার অপরাধে নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়

নকল সার মজুত করার অপরাধে নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নকল সারের একটি চালান ধরিয়ে দিয়েছেন এক কৃষক। ওই কৃষকের ফোন পেয়ে নয়ন আহম্মেদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে ৭৩ বস্তা নকল সারসহ আটক করে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ।

রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দত্তাইল গ্রামের মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের মালিক নয়ন আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নকল সার ও কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। 

শনিবার রাতে নয়ন আহম্মেদ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধুতে করে বিএডিসির বস্তাভর্তি টিএসপি সারের বড় একটি চালান গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর তা দোকানে না রেখে নিজের বাড়িতে এবং ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘরে মজুত করেন। সারের এই চালান ও মজুত নিয়ে কয়েকজন কৃষকের সন্দেহ হয়। এর মধ্যে একজন কৃষক ওই রাতেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। 

ওই ফোন পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) তায়েফুজ্জামানের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দত্তাইল গ্রামে গিয়ে নয়ন আহম্মেদের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় তারা ৭৩ বস্তা নকল সার জব্দ এবং নয়ন আহম্মেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে ওই সব বস্তায় নকল সার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি রোববার সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভুইয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ সরোজগঞ্জে যান। 

সেখানে যাওয়ার পর নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি। পরে পুলিশ নয়ন আহম্মেদকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদ বলেন, বিএডিসির বস্তায় টিএসপি সার হিসেবে জব্দ করা সারগুলো নকল। এগুলো ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার সার ব্যবসায়ী নাজমুল হকের কাছ থেকে তিনি কিনে এনেছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ বলেন, নয়ন আহম্মেদ সচেতনভাবে নকল সার বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালের ৪১ ধারায় তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, বর্তমানে শস্য উৎপাদনের ভরা মৌসুমে সার ও কীটনাশকের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে প্রতারক চক্র নকল সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে পারে এ আশঙ্কায় কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। 

কৃষক সচেতন হয়েছেন বলেই নকল সার বিক্রির ঘটনায় জড়িত ব্যবসায়ীকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

এএইচ/

 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি