ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পেট্রাপোলে বাংলাদেশি আমদানিকারকের ১৫ কোটি টাকার পণ্য আটক

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:১৭, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি ট্রাক জব্দ করেছে ভারতীয় বিএসএফ ও কাস্টমস। ঘটনায় দু‘দেশেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে দু‘দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। 

বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে বুধবার জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয় দু‘দেশের বন্দরে।

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়। 

ভারত সরকারের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও কাস্টমস যৌথভাবে আটককৃত ট্রাকগুলোর মালামাল খতিয়ে দেখছে। 

পেট্রাপোল বন্দরে ভারতীয় রপ্তানীপণ্য আটকের ঘটনায় দু‘দেশেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে দু‘দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দু‘দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকের মাঝে। 

ব্যবসায়িক মহল আশংকা করছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরে এই রপ্তানিপণ্য আটকের ঘটনায় অন্যান্য পণ্যের কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাবে।   

ভারতের পেট্রাপোল ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, এই পণ্যের বাংলাদেশের মালিক বেনাপোলের কথিত আমদানিকারক বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত হাসানুজ্জামান হাসান। দীর্ঘদিন যাবৎ হাসানুজ্জামানের মালিকানাধীন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান ট্রেডার্স মিথ্যা ঘোষণায় বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুহানী এন্টারপ্রাইজ, সোহানী এন্টারপ্রাইজ ও তাহানি এন্টারপ্রাইজ নামে বিভিন্ন ভুয়া লাইসেন্সে এসব পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করছিল। 

ভারতীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, এসব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক কুতুব মন্ডল বা মন্ডল গ্রুপ এবং পণ্য চালানটির ভারতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কার্যাদী সম্পন্ন করেন অমিত শাহ বাপি।

জানা যায়, ভারতীয় কাগজপত্রে ১৬টি চালানকে মোটরসাইকেল পার্টস হিসেবে রপ্তানির ঘোষণা করা হলেও ট্রাকগুলোতে ছিল ওষুধ, জিলেট ব্লেড, ট্রিমার, শাড়ি, ফেব্রিক্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, মূর্তি, হাতঘড়ি, চাদর, তালা, থ্রি-পিস, জুতা, সেলুন সামগ্রীসহ নানান পণ্য। 

জব্দকৃত এসব পণ্যের বৈধ কোনো নথিপত্র ভারতীয় কাস্টমসের কাছে পাওয়া যায়নি।

ওপারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, মন্ডল গ্রুপ তার ৫টি রপ্তানি লাইসেন্সের মধ্যে মাত্র একটি বৈধ, বাকি চারটি ভুয়া বলে অভিযোগ। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রপ্তানি করে আসছে। ভারত থেকে মোটর পার্টস রপ্তানিতে প্রণোদনা (ইনসেপট্রি) পেয়ে থাকে রপ্তানিকারকরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ ব্যবসা করে আসছে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।

স্থানীয়দের তথ্য সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ফ্যাস্টিট আওয়ামী লীগ নেতা হাদিউজ্জামানের ভাই হাসানুজ্জামান। বেনাপোলের দুর্গাপুর গ্রামের আজিমসহ কতিপয় অসাধু ব্যাবসায়ী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও রাজস্ব ফাঁকিতে সিদ্ধহস্ত নামডাকী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারকের যোগসাজজে দুই দেশেই রাজস্ব ফাঁকি দিতে কৌশলে ভারত হতে পণ্য আমদানি করে। এতে করে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারালেও রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছে। অসাধু ব্যবসায়িক চক্র ও কতিপয় অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও বন্দর কর্মকর্তারা এই চক্রের সাথে জড়িত বলে তাদের দাবি। 

ভারতীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বেনাপোল বন্দরের শেড ইনচার্জ ও আইআরএম টিম ও শুল্ক গোয়েন্দার যোগসাজজে পূর্ব চুক্তি মোতাবেক শুল্ক ফাঁকি দিতে ভারত থেকে এমন পণ্য চালান আমদানি করেছিল। বাংলাদেশে এসব পণ্যের শুল্কায়ন গ্রুপ ও পরীক্ষণ গ্রুপ (আইআরএম) টিমের নাম মাত্র পরীক্ষণে মোটা টাকার বিনিময়ে খালাশ হয়ে যায় অবৈধ বড় বড় পণ্যের চালান।

বেনাপোল বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, শুল্ক ফাঁকি দিতে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা অবৈধ পণ্য বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে বাংলাদেশে আমদানি করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন মহল জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
রপ্তানি পণ্য আটকের ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের ইনভেজটিকেশন রিসার্স ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) উপ কমিশনার রাফেজা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি ভারতে বড় একটি পণ্য চালান আটক হয়েছে। এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারিনি। বিষয়টি জানার পর আমাদের কিছু করণীয় থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি