ঢাকা, রবিবার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬

তরুণ প্রজন্মের ধৈর্য ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:৫৮, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০০, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ তরুণ হলেও তাদের মধ্যে ধৈর্য এবং গভীরভাবে কোনো বিষয় বিশ্লেষণের ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাদের একমাত্র স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুকে ‘ভাইরাল’ হওয়া। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা অনেকটা ‘ইনস্ট্যান্ট কফির’ মতো; ইনস্ট্যান্ট কমেন্ট করে, ইনস্ট্যান্ট রিয়েক্ট করে। তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণও করতে চায় না, বুঝতেও চায় না। বোঝার সক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে। 

মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, বিশাল এই তরুণ গোষ্ঠী যদি গবেষণার চেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বেশি আগ্রহী হয়, তবে দেশ কীভাবে উদ্ভাবন ও গবেষণার পথে এগিয়ে যাবে?

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তরুণদের একমাত্র স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুকে ‘ভাইরাল’ হওয়া। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে শিক্ষক বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না। ফেসবুক লাইভে এসে অসংলগ্ন ও অযাচিত মন্তব্য করার প্রবণতা তরুণদের একটি ভুল পথে পরিচালিত করছে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে একটি নৈতিকতা বিবর্জিত প্রজন্ম গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (IPR) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দেশের অনেক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কাজ প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দেশের মাটিতে স্বীকৃতি পাচ্ছে না, অথচ অন্য দেশ সেগুলো নিজেদের নামে নিবন্ধন বা ট্রেডমার্ক করে নিচ্ছে। গবেষণার সুফল রক্ষায় এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ নিশ্চিতে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইউজিসি আয়োজিত এই কর্মশালায় উদ্ভাবন ও গবেষণার গতিশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে কেবল ফেসবুক বা ইন্টারনেটের ভাইরাল সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় মেধা ও উদ্ভাবনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। দেশের উদ্ভাবনগুলো যেন সঠিক আইনি সুরক্ষা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেশনজট কমাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিলন বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়ানো হলেও তা যাচাই না করে প্রচার করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গুজব রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে কিংবা যাচাই ছাড়া প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি