রাবিপ্রবি উপাচার্যকে অপসারণে ছাত্রদলের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
প্রকাশিত : ১৮:০৬, ৫ মে ২০২৬
দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্যকে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালটির উপাচার্যের কার্যালয়ের সমানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ অপসারণের দাবি তুলে উপাচার্যের কার্যালয়ে তারা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন না মেনে নিজের খেয়াল-খুশি মতো নিজের পছন্দের লোককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নয় বরং দলীয় পরিচয়কে প্রাধ্যান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি দলের পক্ষে দলীয়করণ করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী শিক্ষকদের বিভিন্ন পদে পদায়নও করেছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অডিট আপত্তি রয়েছে, যার মধ্যে বরাদ্দের অতিরিক্ত জ্বালানি উত্তোলন, এক খাতের বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয়সহ পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়াও উপাচার্য ৫ আগস্টের পরে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের অজুহাতে শহীদ বেদিতে ছাত্রদলের দেয়া ফুল ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্যের অপসারণের দাবি তুলে আলটিমেটাম দিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের নেতারা।
তবে তারা জানিয়েছে, আন্দোলনের মধ্যেও ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল কার্যক্রম চালু থাকবে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এতে তারা বাধার কারণ হবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যলয় কমিটির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন অর্ণব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামস শাহরিয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সরকার, সদস্য সচিব জিশান আহম্মেদসহ অন্য নেতারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. মো: আতিয়ার রহমান বলেন, ‘ইতোপূর্বে নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা তথ্য-উপাত্তসহ শিক্ষার্থীদের সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। প্রতিটি নিয়োগই আমরা সম্পন্ন করেছি ইউজিসি’র (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা মেনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনক্রমে। তারপরও যদি কারো কোনো তথ্য জানার থাকে, প্রশ্ন থাকে, সরাসরি আমার থেকে জানার সুযোগ রয়েছে।’
আওয়ামী পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা জানি না, গতকাল যে তিনজনের কমিটি হয়েছে সেখানে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীকালে ইন্টেরিম সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব করা একজনকে অভিজ্ঞতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে টিমের সদস্য হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
এমআর//
আরও পড়ুন










