বইয়ের মান যাচাই করতে মধ্যরাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশিত : ০৮:৩৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান যাচাই করতে মধ্যরাতে রাজধানীর কয়েকটি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর হঠাৎ করেই রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসময় পাঠ্যবই ছাপার বিভিন্ন ধাপ, কাগজের মান, মুদ্রণের গুণগত মানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বইয়ের বান্ডিল থেকে নমুনা কপি সংগ্রহ করে সার্বিক গুণমান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের মানসম্মত বই মুদ্রণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই ছাপানো হয়। এসব বইয়ের ছাপার মান, কাগজের গুণগত মান ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে রাতের বেলায় ছাপাখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় তিনি বই ছাপার কাজে ব্যবহৃত কাগজ, মুদ্রণের মান এবং বইয়ের সামগ্রিক গুণগত মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ জন্য বই ছাপার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় রাখা প্রয়োজন।
তারা আরও জানান, পাঠ্যবই ছাপার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
এদিকে মধ্যরাতে শিক্ষামন্ত্রীর ছাপাখানা পরিদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










