ঢাকা, সোমবার   ১১ মে ২০২৬

প্যারোলে কারামুক্ত হলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪৮, ১১ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে কারামুক্ত হয়েছেন। এক বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ এবং প্যারোলের শর্ত পূরণ হওয়ায় তাকে এই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে দেশটির রাজধানী ব্যাংককের ক্লোংপ্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। গত ২৯ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত প্যারোল কমিটি ১১ মে তাকে মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

থাকসিনকে স্বাগত জানাতে কারাফটকে হাজির হন তাঁর পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা। তিনি বেরিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করেন। সেখানে থাকসিনের মেয়ে ও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা উপস্থিত ছিলেন। 

লাল শার্ট পরিহিত বিপুল সংখ্যক সমর্থক তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমান। থাকসিন সমর্থকদের অভিবাদন জানান। 

থাকসিন কারাফটক থেকে বেরিয়ে আসার পর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিনি থাই জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানান।

এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে গাড়িবহর নিয়ে কারাগার এলাকা ছাড়েন থাকসিন। প্যারোলে মুক্তির পর তাকে সরাসরি ব্যাংককের একটি প্রবেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এ সময় তাঁর বিলাসবহুল গাড়ির পেছনের জানালার কাচ পুরোপুরি নামানো ছিল। ধীরগতিতে গাড়িটি সমর্থকদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। তিনি সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।

থাকসিনের প্যারোলের মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময় তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে। থাইল্যান্ডের ‘ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস’–এর বিধি অনুযায়ী সাধারণ প্যারোল পাওয়া ৮৫৯ জন বন্দীর একজন থাকসিন।

প্যারোলে মুক্তির তিন দিনের মধ্যে থাকসিনকে ব্যাংকক প্রবেশন দপ্তর–১–এ হাজিরা দিতে হবে। ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায় থাকসিনের বাসভবন। সেটি এই দপ্তরের আওতাধীন। প্যারোল চলাকালে প্রতি মাসে একবার তাঁকে এই দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে।

এছাড়া আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তার এক বছরের সাজার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি থাইল্যান্ডের বাইরে বা অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

৭৬ বছর বয়সী থাকসিন গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে ছিলেন। সেই সময় থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতে জড়িত থাকার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

আদালত বলেছিলেন, ২০২৩–২৪ সালে পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের ভিআইপি ওয়ার্ডে থাকসিনের দীর্ঘ অবস্থানকে কারাভোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ১১ মে (আজ) পর্যন্ত তাঁর দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ তিনি ভোগ করেছেন, যা প্যারোল পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থাকসিনকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট আদালত তাঁকে দণ্ড দিয়েছিলেন। ওই সময় ব্যাংককের রিম্যান্ড কারাগারে যাওয়ার পরপর বুকে ব্যথা অনুভব করেছিলেন থাকসিন। দ্রুত তাঁকে পুলিশ জেনারেল হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানেই ছিলেন। ওই সময় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করাকে ‘অবৈধ’ বলেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, প্যারোলে মুক্তি পেলেও থাকসিনের ওপর এখনো রাজকীয় অবমাননার একটি পৃথক মামলা ঝুলছে। ২০১৫ সালে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের জের ধরে করা সেই মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল করেছেন।

থাকসিন সিনাওয়াতরা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০০১ এবং ২০০৫ সালে দুই দফায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ২০০৮ সাল থেকে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি