ককপিটে পাইলটদের ছুরি হামলা, সৌদিতে জরুরি অবতরণ
প্রকাশিত : ১৭:৩৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাঝ আকাশে চলন্ত উড়োজাহাজের ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাত্র দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। একপর্যায়ে বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় সৌদি আরবের তাবুকে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাই দুবাই’–এর একটি ফ্লাইটে এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই থেকে উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটির ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ককপিটের ভেতরেই এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ছুরির আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, আহত পাইলটের পরিহিত শার্ট রক্তে ভিজে যায়।
পাইলটদের এই মারামারির জেরে বিমানটি মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মাত্র ২ মিনিটে মধ্যে উড়োজাহাজটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা ভেবেছিলেন, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি হয়তো দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে।
বাঁচালেন অন্য দুই পাইলট ও যাত্রীরা
জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই বিমানের এক যাত্রী জানান, যখন ককপিটে হামলা চলছিল এবং বিমানটি দ্রুত নিচে নামছিল, তখন সামনের সারির যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী পাইলটকে নিরস্ত করেন এবং তাকে ককপিট থেকে বের করে নিয়ে আসেন।
কাকতালীয়ভাবে, ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের আসনে আরও দুজন পাইলট বসে ভ্রমণ করছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এক যাত্রী চিৎকার করে পেছনের আসনে থাকা ওই দুই পাইলটকে দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে তারা দ্রুত ককপিটে গিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। একই সময়ে বিমানে থাকা একজন ডেন্টিস্ট (দন্তচিকিৎসক) দ্রুত এগিয়ে এসে আহত পাইলটকে জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পাঠানো হয়েছিল ‘ছিনতাই’ সংকেত
সিএনএন জানিয়েছে, ককপিটে হাতাহাতির চরম মুহূর্তে বিমানটি থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ (7700) পাঠানো হয়। বিমান চলাচল বিজ্ঞানের পরিভাষায়, সাধারণত উড়োজাহাজ কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা ছিনতাইয়ের শিকার হলে এই ধরনের সংকেত পাঠানো হয়ে থাকে।
সংকেত পাওয়ার পর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা ও তোড়জোড় শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না, বরং ককপিটের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
জরুরি সংকেত পাঠানোর পর নতুন চালক দল বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যান। সেখানে বিমানটি নিরাপদভাবে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে, জরুরি অবতরণে বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বিমানের ক্রু ও যাত্রীসহ সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।
এমএইচ
আরও পড়ুন










