ঢাকা, সোমবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাপানে লোক পাঠাতে বিশেষভাবে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জাপানে কর্মী পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুব কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ বিষয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এরই ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, নবগঠিত সরকারের যে নির্বাচনি ইশতেহার রয়েছে—সেই নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে ২০টি কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এ সরকারের অর্থাৎ বিএনপি দলীয় ইশতেহার যেহেতু জনগণ সমর্থন দিয়েছে, সেহেতু এটি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এই জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

আরও জানানো হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাপানে বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক কর্মী প্রেরণের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুব কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কীভাবে এ বিপুল যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে জাপানসহ অন্যান্য দেশে পাঠানো যায়- সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত অদক্ষ শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে জাপানে জনসংখ্যার বার্ধক্য ও যুবশ্রেণির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন নির্দিষ্ট ট্রেডে জনবল প্রয়োজন হচ্ছে। সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩৩টি টিটিসিতে জাপানমুখী ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু ছিল। বর্তমানে জাপানের চাহিদা বিবেচনায় আরও ২০টি টিটিসি যুক্ত করে মোট ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। এ সংকট নিরসনে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া দেশের প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জনশক্তি প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে কীভাবে সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জাপানের শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের আগেই বাংলাদেশ যেন শক্ত অবস্থান নিতে পারে, সে লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং দুই কর্মদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া জাপানে জনশক্তি প্রেরণ, প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার, প্রশিক্ষক ও অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি