ঢাকা, সোমবার   ১৭ মে ২০২১, || জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮

বাংলাদেশ বন্ধুত্বসুলভ পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাসী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:০৬, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১৭:০৯, ১০ জানুয়ারি ২০১৮

বিজের সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান।

বিজের সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ বন্ধুসুলভ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। তাই এতো কিছুর পরও দেশটির সঙ্গে আমরা সম্পর্ক ধরে রেখেছি। আর ধরে রাখার কারণে আমরা বিশ্বের কাছে সম্মানও পেয়েছি। আজ রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাটিজ (বিআইআইএসএস) ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘চেঞ্জিং গ্লোবাল ডাইনামিক্স: বাংলাদেশ ফরেন পলিসি’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এতে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসনীম সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচারক ড. আহসান মনসুর, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জামির, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে বরাবরই অর্থনৈতিক বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে আসছে। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা সহনশীল যে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এগোচ্ছি এটা আমাদের জন্য এখন ভালো দিক। মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা নীতিগতভাবে অনেক এগিয়ে আছি।তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যদি ওই সময় গ্যাস লাইন দিত তবে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত। মিয়ানমার ইস্যুতে চীন নি:শর্ত সমর্থন ছিল। ভারত আবার আমাদের ভোট না দিলেও তাদের অবস্থান বিপক্ষে ছিল না। মিয়ানমারকে ঘিরে এসব ইস্যুতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ছিল এগিয়ে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২১ নয়, ২০৪১ সালের মাইলফলকে এগোচ্ছে। সেজন্য আগামীর অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কয়েকটি বিষয় বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে জিএসপি, এফটিএ ও ব্লু -ইকোনমি উল্লেখযোগ্য।

শাহরিয়ার  আলম জানান, আগামী মার্চে জলবায়ু পরিবর্তনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আগামীতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা একটি এফটিএ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ ‘ক্লাইমেট নেগোসিয়েশন অ্যান্ড বাংলাদেশ ফরেন পলিসি’ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে দরকষাকষির বিষয়ে আমরা অনেক চিৎকার করেছি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনকারী দেশগুলো আমাদের চিৎকারে আশানুরূপ সাড়া দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমাদের আওয়াজ আরও জোরালো করতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ‘গ্লোবাল হিউম্যান মুভমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান ইস্যুজ অ্যান্ড বাংলাদেশ ফরেন পলিসি’ শীর্ষক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের গতিশীল পরিবর্তনে বাংলাদেশের পরিবর্তন সবসময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। এ মানবিক পরিচয়ের কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিসহ সব ইতিবাচক দিকে অন্যতম মডেল দেশে পরিণত হয়েছে।

 আরকে // এআর

 

 

 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি