ঢাকা, সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১, || ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭

বীর নারী শিলা ও মায়া প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত (ভিডিও)

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:১০, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশ, তাদের অনেকেই এখনও পাননি কোনও স্বীকৃতি। একাত্তরে সম্ভ্রম হারানো মৌলভীবাজারের শিলা ও মায়ার নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। এই দুই বীর নারীর জীবনের গল্প তুলে এনেছেন মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী।

১৯৭১ সালে যাত্রাদলের নায়িকা ছিলেন শিলা গুহ। সে সময় রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুরে গাল্‌স স্কুলে দলের সাথে ছিলেন তিনি। একদিন রাজাকাররা পাকিস্তানী সৈন্যদের নিয়ে এসে শিলা গুহ, সবিতা ও মিনু নামে তিন তরুণীকে ধরে নিয়ে যায়। নির্যাতনের শিকার হন তারা। অজ্ঞান হয়ে পড়েনে। মৃত ভেবে শিলা গুহকে ফেলে দেয়া হয় ধান ক্ষেতে।

সেখান থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও তার ভাই সাত্তার তাকে উদ্ধার করে সুস্থ করেন। খবর যায় খান সেনাদের কাছে। তাকে ফেরত দিতে আবুল চেয়ারম্যান অস্বীকার করলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আবুল হোসেন ও তার ভাই সাত্তারকে ধরে নিয়ে ভুরঙ্গামারী সড়কে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হলে শিলা বাগেরহাটের নিজ বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু স্থান হয়নি পিতৃগৃহে। 

মুক্তিযোদ্ধা শিলা গুহ বলেন, নিয়ে গেছে মিলিটারি ক্যাম্পে। ৫-৭ দিন রেখে তারপর ছেড়ে দিয়েছে। বাবা-মা আমাকে জায়গা দেয়নি।

আবারও যোগ দেন যাত্রাদলে। গাড়ি চালক যতিন গুহের সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের ৭ বছর পর যতিন জানতে পারে তিনি বীরাঙ্গনা। দুই সন্তানসহ শিলাকে রেখে পালিয়ে যায় যতিন। স্বামীকে খুঁজে খুঁজে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এসে আশ্রয় নেন। এখন বয়স হয়েছে। মানুষের সাহায্য-সহায়তায় চলে সংসার।

শিলা গুহের মেয়ে জানান, আমাদের ঘরে কোন খাবার নেই। আমাদের বাবাও আর আসেন না। তখন মা বাধ্য হয়ে আবার যাত্রাদলে যোগ দেন।

শিলার মতো ভাগ্য বিড়ম্বিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাঢ়েরগজ গ্রামের মায়া খাতুন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাড়ির পাশে জানাউড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিলো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। একদিন দুপুরে মায়াকে ক্যাম্পে নিয়ে যায় হানাদাররা, তার ওপর চলে বর্বর নির্যাতন। 

মুক্তিযোদ্ধা মায়া খাতুন বলেন, না-মরা না-জেতা এই অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে আনা হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে মায়া দেশে আসেন নিজ বাড়িতে। এই সময়ের মধ্যে বাবা নিরুদ্দেশ হন, মা মারা যান। আশ্রয় নেন নানীর কাছে। নানী মারা গেলে আর আশ্রয় থাকেনা মায়ার। কাজ নেন হোটেলে। এক সময়  হোটেল মালিক তাকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। স্বামী মারা গেলে দুই মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। জীবন সায়াহ্নে এসেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার সম্মান।

মুক্তিযোদ্ধা মায়া খাতুন বলেন, কাগজপত্র এখনও ঘরে আছে। কিন্তু আমার কোন কিছুই হচ্ছে না।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এই দুই বীরাঙ্গনার দাবি, প্রাপ্য সম্মান আর মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাথা গুজবার ঠাঁই। শেষ জীবনে একটু স্বস্তি চান তারা।

ভিডিও-

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি