ঢাকা, রবিবার   ১৬ মে ২০২১, || জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

চলে গেলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী’র সহধর্মিণী লিলি চৌধুরী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:৪৮, ১ মার্চ ২০২১

শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী’র সহধর্মিণী ও প্রয়াত মিশুক মুনীরের মা বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী লিলি চৌধুরী মৃতুবরণ করেছেন। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বনানীর বাসভবনে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আগামীকাল সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ বনানীর বাসভবনে রাখা হবে। পরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে জানাজা শেষে তার মা ও ছেলের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। লিলি চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর ফেসবুকে মায়ের মৃত্যু নিয়ে লেখেন, ‘মাকে ধরে রাখতে পারলাম না আমরা।

লিলি চৌধুরীর প্রয়াণে ফেসবুকে দেওয়া এক স্টাটাসে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, চলে গেলেন লিলি চৌধুরী -আমাদের লিলি চাচী। গত আগষ্টের ৩০ তারিখে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে লিখেছিলাম লিলি চাচীর কথা - সবার নমস্য এক ব্যক্তিত্ব এবং আমার প্রিয় এক মানুষ। আমার কৈশোরেই এক প্রতিভাময়ী বেতার অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর গুণমুগ্ধ ছিলাম আমি। জানতাম যে, শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী তিনি। পরবর্তী সময়ে নৈকট্য পারিবারিক সূত্রে।

বছর ১৫ আগে বেনুকে দেখতে আমাদের রুজভেল্ট দ্বীপের বাড়ীতে এসেছিলেন লিলি চাচী। অনেকক্ষণ ছিলেন, গল্প করেছেন।কোথা দিয়ে যে সময় কেটে গেছে, টেরই পাই নি। 

বছর দশেক আগে মিশুক যখন চলে গেলো, তখন লিলি চাচীর কথা খুব মনে হতো আমার। সন্তানের প্রয়ান বড় বেদনার।কিন্তু তাঁর চরিত্র ও জীবন বোধের দৃঢ়তায় মুগ্ধ হতাম আমি। লিলি চাচীর স্পষ্ট কথনও আকর্ষণ করতো আমাকে। 

স্বল্পভাষী নিভৃতচারী ছিলেন লিলি চৌধুরী। তাঁর স্নেহ পেয়েছি সব সময়। তবে তাঁর স্নেহ প্রদর্শনের ছিল না, ছিল উপলব্ধির। নানান সময়ে তার প্রকাশ টের পেয়েছি - ভালো লাগতো তাঁর সংযত, কিন্তু সংহত মমতা।  সে মমতার রেশটুকু থেকে যাবে আমার হৃদয়ে। 

আরকে//
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি