আগুনের খেলা আর ঐতিহ্যের মায়া: হ্যপিং প্রাচীন শহরের এক রঙিন উপাখ্যান
প্রকাশিত : ২২:৩৬, ২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৭, ২ মার্চ ২০২৬
ইতিহাসের ধুলোমাখা পথ আর প্রাচীন ঐতিহ্যের জাদুঘর হলো চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের হ্যপিং প্রাচীন শহর। বসন্ত উৎসব বা স্প্রিং ফেস্টিভ্যালের ছুটিতে এই শহরটি যেন এক রূপকথার রাজ্যে পরিণত হয়।
শহরের দক্ষিণ তোরণের ওপর থেকে যখন লাল খাম আর সৌভাগ্যের প্রতীক ঝরনার মতো ঝরে পড়ে, তখন শত শত পর্যটকের ভিড় আর উল্লাস জানান দেয়—এখানে আনন্দ কেবল উৎসব নয়, এ এক আশীর্বাদ।
দিনের আলোয় এই শহরের পাথুরে অলিগলিতে যখন ড্রাগন নাচ আর ‘ভাগ্যের দেবতা’র শোভাযাত্রা চলে, তখন পর্যটকরা হারিয়ে যান প্রাচীন কোনো যুগে। স্থানীয় অপেরা হাউসে হাসির নাটক কিংবা লোকজ পারফরম্যান্স আধুনিক দর্শকদেরও মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
তবে হ্যপিংয়ের আসল জাদু শুরু হয় সূর্য ডোবার পর। ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন আগুনের স্ফুলিঙ্গ নিয়ে শিল্পীরা ‘ফায়ার পট’ নৃত্য শুরু করেন, তখন আগুনের সেই চক্রাকার শিখা রাতের আকাশকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে ভরিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতা আর পারফর্মারদের নিপুণ দক্ষতা দেখে পর্যটকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
হ্যপিংয়ের আকর্ষণ কেবল এই চোখধাঁধানো উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে শত বছরের স্বাদ। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক পারিবারিক দোকানে আজও তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ইউচিয়াং’ তফু।
কোনো আধুনিক রাসায়নিক ছাড়াই আট প্রজন্ম ধরে চলে আসা গোপন পদ্ধতিতে তৈরি এই টফু চেখে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। দোকানের মালিকের কাছে এটি কেবল ব্যবসা নয়, বংশপরম্পরায় টিকে থাকা এক পরম ঐতিহ্য।
হাজারো প্রদীপের আলো আর বনফায়ারের চারধারে পর্যটকদের স্বতঃস্ফূর্ত নাচ হ্যপিংকে এক ‘জীবন্ত প্রাচীন শহর’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলে। এখানে একদিকে যেমন ইতিহাসের গভীরতা আছে, অন্যদিকে আছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উষ্ণতা। প্রবীণরা যেখানে ঐতিহ্যের ছোঁয়া খুঁজে পান, তরুণরা সেখানে খুঁজে পান রোমাঞ্চ আর নতুনত্বের স্বাদ।
এমআর//
আরও পড়ুন










