ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২৬

আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসা মা-বাবা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৫৭, ২ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা সাক্ষ্য দেন। 

আদালতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বনানির কাকলীতে অফিসে পৌঁছানোর পর স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, বাসায় এসে দেখেন ভবনের সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে স্ত্রী জানান, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা রয়েছে। আশপাশের লোকজন দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে দরজার মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।

পরে সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। স্বপ্না খাতুন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরে পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এরপর থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে এজাহার দায়ের করেন।

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ঘটনার সময়, অফিস থেকে বাসায় ফিরতে কত সময় লেগেছে এবং তিনি পুরো ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু দেখেছি, তা-ই বলেছি।’

আসামিদের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় বা শত্রুতা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। সাক্ষ্য শেষে পুলিশের সহায়তায় বিমর্ষ অবস্থায় আদালত ত্যাগ করেন তিনি।

এদিকে আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তারও। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজ করছিলেন। বড় মেয়ে রাইসাকে বলেন ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে চাচার বাসায় যেতে। রামিসার কোনো সারা শব্দ পাওয়া যায়নি। তিনি মনে করেছেন হয়তো ওরা চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান, তবে সেটা দূরে মনে হয়েছে। এরপর গেটের সামনে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা।

পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসার খোঁজ না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটে গিয়ে বারবার দরজা ধাক্কা দিলেও কেউ দরজা খুলছিল না।

তিনি বলেন, দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর চিৎকার শুরু করলে ভবনের লোকজন জড়ো হন। পরে স্বামীকেও ফোন দেন। আশপাশের লোকজন উঁকি দিয়ে কিছু দেখতে না পেলেও রাজু নামে এক যুবককে ভিডিও করতে দেখা যায়, ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন।

একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাথরুমে ছোপ ছোপ রক্ত দেখতে পান সবাই। পারভীন আক্তার বলেন, তিনি বারবার স্বপ্না খাতুনকে দরজা খুলতে বললেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রামিসার লাশ উদ্ধার করে।

আদালতে কাঠগড়ায় থাকা স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।’ এছাড়া আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।’

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহেল রানা খুন করেছে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়েছে বলে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান তিনি।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি