কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু
প্রকাশিত : ০৯:০০, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কলকাতায় একটি খ্যাতনাম দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরবাগানের পূজামণ্ডপের বের হওয়ার গেটে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ও আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তাদের অনেকেই কলকাতার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে পূজা দেখতে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের পাশে কোনো ভবন থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ সহ বহু মানুষ শেয়ার করছেন সামাজিক মাধ্যমে।
ওই ভিডিওটি কিছুটা অস্পষ্ট, তবে সেখানে যে অনেকে মাটিতে পড়ে আছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে এবং আর্ত চিৎকারও শোনা যাচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপটি সিল করে দিয়েছে। পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে কলকাতার আরও তিনটি বড় ও খ্যাতনামা পূজাতে দর্শকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরেকটি বড় পূজা, যেখানে ব্যাপক ভিড় হচ্ছিল কদিন ধরেই, সেটির উদ্যোক্তারা নিজে থেকেই দর্শকদের ফিরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও হাসপাতালে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বয়ানে যা পাওয়া গেছে, সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে বহু মানুষ সরু রাস্তা ও গলির মধ্যে অবস্থিত এই পূজা মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নিতে ছুটে যান।
অন্যদিকে, মণ্ডপের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীরা বাইরে বেরোতে পারছিলেন না। বাইরে বৃষ্টির মধ্যে আটকে পড়া মানুষও ভিতরে ঢোকার জন্য ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। এর জেরে অস্থায়ী সিঁড়ির উপর হুড়োহুড়িতে মানুষ একে অপরের গায়ের উপর পড়ে যান।
মণ্ডপে লোহার কাঠামোর নীচে দুর্গাপ্রতিমা রাখা ছিল। ওই কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গোটা ঘটনাটি পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে ঘটে থাকতে পারে।
ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডেলে সমবেদনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
তার দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় নিহতদের নিকটাত্মীয়দের প্রত্যেককে দুই লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে।
এএইচ
আরও পড়ুন










