গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ
প্রকাশিত : ১৫:০৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধ করতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ জন্য সাইবার মনিটরিং টিমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুজব শনাক্ত, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক এক অনলাইন সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোনো ছবি-ভিডিও, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্যকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে তা যাচাই এবং গুজবের উৎস শনাক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হলে এর উৎস, সময় ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো বা অন্য কোনো ঘটনার ছবি-ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুর্গাপূজা, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্টের ওপর বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কোনো কনটেন্ট নজরে এলে তা অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের ধারাবাহিকতায় কাজ করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ এবং সময়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতেও বলা হয়েছে। এসব তথ্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থায় কাজে লাগানো হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু গুজব শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; এর বিপরীতে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত নিশ্চিত করে সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সভায় যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধ এবং দ্রুত সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেই সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এমএইচ
আরও পড়ুন










