ঢাকা, শনিবার   ২৩ মে ২০২৬

জাতির অস্তিত্বের স্বার্থেই চামড়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:২৫, ২৩ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জাতির অস্তিত্বের স্বার্থেই চামড়া শিল্পকে বাাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই খাতে মনোযোগী হলে বছরে অন্তত ২৫-৩০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য সম্ভব। ফলে এটি আমাদের অর্থনীতির একটি বড় আশার জায়গা। কিন্তু সরকার এ খাতের বিষয়ে মনোযোগী নয়। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তা না হলে কোন কিছুই হবে না। 

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে “অস্তিত্ব সংকটে চামড়া শিল্প : উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তাদের আলোচনায় উপরোক্ত বিষয়গুলো উঠে আসে। 

লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (এলআইডিএফবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এলআইডিএফবি’র কনভেনর সাদাত হোসেন সেলিম। মাসিক আইন ও বিচার সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এলআইডিএফবি’র সদস্য সচিব এম মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ।

বক্তারা বলেন, দেশের চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে আধুনিক চামড়া সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, স্থানীয় বাজারে চামড়াজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বিপণনে জোর দিতে হবে। আমাদের নিজেদের হাতে থাকা সোনার খনিসম এ সম্পদকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। অথচ এ খাতে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব। আধুনিকতার ছোঁয়া না আনলে এ খাাতকে টেকানো মুশকিল হবে। ব্যাংকের লোকজন এ খাত থেকে বিভিন্নভাবে ১৫% নিয়ে নেয়। এ ব্যবসায় লাভ হয় কত। বিগত সরকারের কূটকৌশলে এ খাত ধ্বংস প্রায়। 

আরও বলেন, মাদ্রাসা ঐতিহাসিকভাবে চামড়া শিল্পের সাথে যুক্ত। মাঠ পর্যায়ে মাদ্রাসার সাথে এ খাতের সমন্বয়হীনতাও একটি সমস্যা। নতুন উদ্যোক্তাদের এ খাতে আসতে হবে। তাহলে এটি গতি পাবে। আর আমাদের দেশের মতো পৃথিবীর কোথাও চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয় না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. এম এ সবুর ও ড. এম এ মুত্তালিব, হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের  যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক,  জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক সারওয়ার তুষার এবং বাংলাদেশ লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আলী বাপ্পী প্রমুখ। 
এসময় এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এলআইডিএফবি’র ১৩ দফা প্রস্তাবনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন চামড়া সংগ্রহ কেন্দ্র ও অস্থায়ী কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়। এতে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে অপচয় কমবে ও গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়। 

প্রস্তাবনায় চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তুলতে, একটি স্বতন্ত্র ‘চামড়া মন্ত্রণালয়’ অথবা শক্তিশালী ‘লেদার বোর্ড’ গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব ও সহজ ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্যানারি মালিকদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান নিশ্চিত করতে, পশু জবাই থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পশুসম্পদ ও ভেটেরিনারি সেবার উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও লোন সুবিধা এবং রপ্তানিতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। চামড়া শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

সংগঠনটি দেশে ‘লেদার ফুটওয়্যার সিটি’ বা বিশেষায়িত শিল্পপার্ক গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছে। এতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি