জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান কে পূরণ করবে: এ টি এম আজহার
প্রকাশিত : ২০:৪৪, ২৮ জুন ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দলের উদ্দেশে জামায়াতের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন এ টি এম আজহার। এর আগে গত ২২ জুন জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ, চার মাসেও আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?’ প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে কেন বিএনপির এত পছন্দ?’ তাকে পদে রাখার জন্য কোনো দিক থেকে বিএনপি ইঙ্গিত পেয়েছে কি না সেই প্রশ্নও রাখেন জামায়াতের এই এমপি। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে চাইলে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন আজহার। তিনি দাবি করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের এই নেতাদের মিথ্যা মামলায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।
এ সময় সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থারি দাবিও জানান তিনি। বলেন, ‘রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক চাপ এবং বৃহৎ রাজস্ব–ঘাটতির মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।’
এ টি এম আজহার বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড পরিমাণ দায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ‘ফিন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট’ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
সুদ একটি বড় পাপ উল্লেখ করে আজহার বলেন, ‘বেশির ভাগ মুসলমানের দেশে সুদ চলতে দেয়া যায় না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক রিটেইল সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প বিবেচনা করা যায়।’
এমআর//
আরও পড়ুন










