বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: কী পেল বাংলাদেশ?
প্রকাশিত : ১৯:৩৪, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫০, ২৮ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তার এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের ভেতর চলছে নানামুখী আলোচনা। সরকার গঠনের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর, আর সেই কারণেই সফরটির দিকে নজর ছিল বিশ্ব রাজনীতি পর্যবেক্ষকদেরও। বিশেষ করে চীনের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবশালী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্যচির সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে এক সফরে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি বলছে, এই সফর ছিল শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ বা কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী করে ‘নতুন যুগে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ গঠনে একমত হয়েছে।
রাজনৈতিক আস্থার নতুন বার্তা
যৌথ বিবৃতিতে চীন ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নতুন সরকারের "বাংলাদেশ সবার আগে" নীতির প্রশংসা করেছে। এর মাধ্যমে চীন নতুন সরকারের সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় কাজ করার রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।
একই সঙ্গে দুই দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে "২+২ সংলাপ" চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। এর অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্যতে শুধু অর্থনীতি নয়, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়েও দুই দেশের নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে।
এক-চীন নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ আবারও স্পষ্টভাবে এক-চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং চীনের জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। বিনিময়ে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পারস্পরিক সমর্থন দুই দেশের কৌশলগত বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সুযোগ
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা। চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশকে দেওয়া শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, চামড়া, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত আরও বড় বাজার পেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি কয়েকটি বড় প্রকল্পেও অগ্রগতি হয়েছে।
১। মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ
২। চট্টগ্রাম চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল
৩। শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগ
৪। কৃষির আধুনিকীকরণ
৫। উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিআরআই হলো চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামো ও সংযোগ কর্মসূচি। এর আওতায় সড়ক, রেল, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ, শিল্পাঞ্চল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এবার সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
তিস্তা প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি
বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প। এই প্রকল্প নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করবেন। চীন জানিয়েছে, নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রকল্পে সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও চীন সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগই পাবে না, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল সক্ষমতা উন্নয়ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সহযোগিতা ও বিনিয়োগের পথও উন্মুক্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই সহযোগিতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন এবং স্মার্ট অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে
বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। তবে এবার দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, উচ্চপর্যায়ের সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আশরাফ উজ জামান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীন দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তার মতে, নতুন করে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কই নয়, বাংলাদেশের পেশাদার সামরিক সক্ষমতাও আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যৌথ অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের যোগাযোগ
বাংলাদেশ ও চীন মনে করে, একটি সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি শুধু সরকার বা কূটনীতির ওপর নির্ভর করে না, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপরও নির্ভরশীল। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, গণমাধ্যম, যুব ও ক্রীড়া, জনস্বাস্থ্য এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক, শিল্পী ও তরুণদের জন্য নতুন বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণও এই সহযোগিতার প্রত্যক্ষ সুফল পেতে পারে। অর্থাৎ, কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতেই জনগণ পর্যায়ের এই সংযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগও অব্যাহত রাখবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় কূটনৈতিক সমর্থন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্যের বার্তা নিয়ে এসেছে। চীন বাংলাদেশের ব্রিকসে সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টা এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চীন পুনরায় আশ্বাস দিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর টেকসই ও গ্রহণযোগ্য প্রত্যাবাসনে তারা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। যদিও অতীতেও বেইজিং এ বিষয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে, তবে যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বোঝা যায়, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে চীন এখনও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী।
নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আশরাফ উজ জামান এ বিষয়ে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা না ফিরলে তা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড (BRI) প্রকল্পের জন্যও ক্ষতিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে বেইজিংকে এই বার্তাটি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদর্শী কূটনীতি দেখানোর, যাতে চীনকে মধ্যস্থতাকারী রেখে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।"
একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা
এই সফরে বিভিন্ন খাতে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গণমাধ্যম। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়েই নয়, বাস্তব অর্থনীতিতেও আরও গভীর হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী এই সফর প্রসঙ্গে বলেন, "বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। চীন কেবল আমাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সবুজ জ্বালানির মতো উদীয়মান খাতে তাদের বিনিয়োগ বাংলাদেশের আগামী দিনের আধুনিকায়নে চালিকাশক্তি হতে পারে। তবে এই বাণিজ্য সম্পর্ক যেন একপেশে না হয়, সেদিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে।"
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক কী?
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে শুধুমাত্র বন্ধুত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক সংযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এসব ঘোষণার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে কত দ্রুত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়, কতটা বিনিয়োগ আসে এবং ঘোষণাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। যদি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন










