দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল ক্ষেত্রে হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
প্রকাশিত : ১৯:৫১, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং একটি তেল শোধনাগারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যার এই বিমানবন্দর হামলায় প্রথমে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়ায়। নিহতদের একজন সৌদি নাগরিক এবং অপরজন ভারতীয় প্রবাসী।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জিএসিএ এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে চালানো ওই হামলায় আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক, দুই ইয়েমেনি, দুই ভারতীয়, একজন নেপালি এবং একজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত দুই বাংলাদেশি—সজল চন্দ্র দাস ও মোহাম্মদ আবদুর রহিম বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এর আগে একই দিন সকালে সৌদির শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ পড়ে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই প্রবাসী কর্মী নিহত হন।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই সৌদির বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ১০ ও ১১ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন।
হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আরামকো অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তীব্র নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের কূটনৈতিক মিশনের অনাবশ্যক কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন










