ঢাকা, বুধবার   ১৯ আগস্ট ২০২৬

পালসটেক থেকে প্রথমবার বহুগুণ রিটার্ন পেল স্টার্টআপ বাংলাদেশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৪৬, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৮, ১৯ আগস্ট ২০২৬

কাজী আশিকুর রসুল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আরেফিন রাফি আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক,পালসটেক

কাজী আশিকুর রসুল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আরেফিন রাফি আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক,পালসটেক

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে ঢাকাভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পালসটেক লিমিটেড। সরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ-এর বিনিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে পালসটেক বিনিয়োগের বিপরীতে বহুগুণ রিটার্ন দিয়েছে।

২০২৪ সালে পালসটেকে বিনিয়োগ করেছিল স্টার্টআপ বাংলাদেশ। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিকীকৃত রাজস্ব ২০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্টার্টআপ বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬টি দেশীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে সরকারি এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে পালসটেকই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে বিনিয়োগের বিপরীতে বহুগুণ রিটার্ন নিশ্চিত হয়েছে।

প্রযুক্তিতে ওষুধ বিতরণে নতুন ব্যবস্থা
বাংলাদেশের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সুসংগঠিত নয়। বিশেষ করে ছোট ও স্বতন্ত্র ফার্মেসিগুলোকে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও পাইকারি বাজার থেকে আলাদাভাবে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় নকল ওষুধ ঢুকে পড়ার ঝুঁকিও থাকে।

এই সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনুমোদিত ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে পালসটেক। প্রতিষ্ঠানটির মেডবক্স নামের মুঠোফোনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ফার্মেসিগুলো ওষুধের অর্ডার দিতে পারে এবং একই দিনে তা সরবরাহ করা হয়।

শুধু ওষুধ সরবরাহ নয়, ফার্মেসিগুলোর জন্য অর্থায়ন সুবিধা, ব্যবসা পরিচালনার সফটওয়্যার এবং ওয়ান ফার্মেসি নামে শাখাভিত্তিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে স্বতন্ত্র ফার্মেসিগুলোকে একটি অভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুই বছরে রাজস্ব বেড়েছে ৭৫ গুণ
স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ পাওয়ার পর পালসটেকের ব্যবসায় দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিকীকৃত রাজস্ব ২০২৪ সালের ২০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৭৫ গুণ।

পালসটেক জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের মাসিক রাজস্ব গড়ে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ঢাকায় ১৪ হাজারের বেশি ফার্মেসিকে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি এবং ৮৫ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।

তবে এত দ্রুত প্রবৃদ্ধির পরও বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের ওষুধের বাজারের ৫ শতাংশেরও কম অংশে বর্তমানে পালসটেকের কার্যক্রম রয়েছে। ফলে দেশের বাজারেই প্রতিষ্ঠানটির আরও বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বিনিয়োগ কৌশলে আস্থার বার্তা
পালসটেক থেকে বহুগুণ রিটার্ন পাওয়ার ঘটনাকে দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ।

স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী নুরুল হাই বলেন, মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করা উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যেই তারা বিনিয়োগ করেন। পালসটেকের সাফল্য তাদের বিনিয়োগ কৌশল সঠিক পথে রয়েছে—এমন প্রমাণও দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপগুলোকে আরও বড় হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি
দেশের বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পর এবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে পালসটেক। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সিরিজ এ পর্যায়ের বিনিয়োগ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

বাংলাদেশের বাইরে সৌদি আরবকে প্রথম আন্তর্জাতিক বাজার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

পালসটেকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরেফিন রাফি আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকেই স্টার্টআপ বাংলাদেশ তাদের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেছিল। সেই বিনিয়োগের সফল রিটার্ন প্রমাণ করছে, বাংলাদেশে বড় ও সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো প্রতিভা ও সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পালসটেক সিরিজ এ পর্যায়ের জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে গড়ে ওঠা একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।

লাভজনক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর
পালসটেকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আশিকুর রসুল বলেন, মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো রিটার্ন তৈরি করাও সম্ভব—তাদের সাফল্য সেটিই প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে লাখ লাখ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তারা একটি লাভজনক ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সিরিজ এ পর্যায়ের পরবর্তী যাত্রাতেও একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তারা।

স্টার্টআপ খাতে নতুন সম্ভাবনা
পালসটেকের এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির গল্প নয়; বরং বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। স্থানীয় বাজারের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি, দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং একই সঙ্গে লাভজনক অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব—পালসটেকের দুই বছরের অগ্রগতি তারই উদাহরণ।

স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ থেকে প্রথমবারের মতো বহুগুণ রিটার্ন আসায় ভবিষ্যতে দেশীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি