ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর, ভারতের আদালতে ঝুলছে বিচার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:১১, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর আজ। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যার বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় হতাশ নিহতের বাবা-মাসহ স্থানীয়রা। এদিকে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা সীমান্তবাসীসহ বিশেষজ্ঞদের।

কাঁটাতারের উপর বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। এরপর থেকেই মেয়ে হারানোর স্মৃতি ও কবরকে অবলম্বন করে বেঁচে আছেন মা-বাবা। এ হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পেরুলেও ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে ন্যায়বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন তারা। 

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সাথে কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দেয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের ছবি দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। 

সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে দু’দফায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। 

এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)র মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানীর দিন পিছালেও এখনও আদালতেই ঝুলে আছে বিচারিক কাজ। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চান পরিবার।

দেশ-বিদেশে আলোচিত ফেলানী হত্যার ন্যয় বিচারের মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রত্যাশা স্থানীয়সহ সীমান্তবাসীর।

ভারতের সুপ্রিমকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশনটির শুনানী এখনও হয়নি। অভিযুক্তকে সাজার মাধ্যমে পিটিশনটি নিষ্পত্তি করা হলে দু’দেশের দীর্ঘ সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে আসার কথা জানান কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটনে কাজের সন্ধানে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান তারা। পরে ফেলানীকে বিয়ে দিতে দালালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ফেলানী।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি