ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬

মাতারবাড়ীর বেড়ীবাঁধ লণ্ডভণ্ড, ঘুম ভাঙেনি কর্তৃপক্ষের

মহেশখালী সংবাদদাতা

প্রকাশিত : ১৪:৩৫, ২৪ এপ্রিল ২০২১

Ekushey Television Ltd.

মহেশখালীর মাতারবাড়ীর বেড়ীবাঁধের ৭০ নম্বর পোল্ডারে ছয়-সাত বছর থেকে ভাঙন শুরু হলেও কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়ায় অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় জোয়ারে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও জরুরি মেরামত ও পরিদর্শনে সীমাবদ্ধ থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখছেন না স্থানীয়রা, বর্ষা সন্নিকটে চলে আসলেও এখনো ঘুম ভাঙেনি কর্তৃপক্ষের। 

দেশের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভিটেমাটি দিয়ে উদারতার পরিচয় দিলেও মাতারবাড়ীবাসীর দাবি টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণে পাশে নেই কেউ, এমনই জানান স্থানীয়রা। তারা জানান, হয়তো বর্ষার শুরুতে আবারও মেরামতের নামে সরকারি অর্থের লুটপাট হবে এখানে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, একবছর পূর্বে ছয়শ’ মিটার বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য তিন কোটি টাকার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেওয়া সত্বেও এখনও বরাদ্দ আসেনি। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার বেড়ীবাঁধের ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি পাউবো। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভাঙনের পরিধি বাড়লে শুরু হয় জিও টিউব দিয়ে মেরামত কাজ। প্রতিবারের মতো ওই সময়েও মেরামত কাজে বেড়ীবাঁধের কাছ থেকে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে মেরামত কাজের সাথে সাথে অনেকটা ধ্বসে পড়ে জিও টিউবের বাঁধ। বিষয়টি পাউবোকে স্থানীয়রা অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। 

ফলে স্বাভাবিক জোয়ারেও লোকালয়ে প্রবেশ করে লোনাপানি। এছাড়া ঘুর্নীঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে নতুনভাবে ভেঙেছে বেড়ীবাঁধ। সম্প্রতি বেশ কয়েকবার জোয়ারের পানি প্রবেশে ঝুঁকিতে রয়েছে বেড়ীবাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারসহ সমতলে বসবাসরত কয়েকশ’ পরিবারের জীবন ও জীবিকা। আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় মাতারবাড়ীবাসী। 

প্রতিবারই টেকসই বেড়ীবাঁধ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলেও মানসম্মত স্থায়ী বেড়ীবাঁধ উপেক্ষিত থেকেই যাচ্ছে। অথচ ছয়শ’ মিটার বেড়ীবাঁধ মেরামতের নামে ইতিপূর্বে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অথচ সরকার দলীয় জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতা থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন থেকে বেড়ীবাঁধের টেকসই কাজ না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। 

বিধস্ত বেড়ীবাঁধ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান. বিধস্ত ছয়শ’ মিটার বেড়ীবাঁধ জরুরি মেরামতের জন্য আয়েশা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে ষাট লাখ টাকা ব্যয়ে জিও টিউব দিয়ে কাজ করা হয়েছিল। এছাড়া পর্যান্ত বরাদ্দ না থাকায় স্থায়ী টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ কাজ সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও জানান, টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তিন কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। একটি বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোন খবর নেই বরাদ্দের। 

তবে স্থানীয়রা জানান ভিন্নকথা। দীর্ঘ ছয় সাত বছর ধরে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখনো মানসম্মত মেরামত কাজও হয়নি। জরুরি মেরামতের নামে অর্থের অপচয় না করে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি