ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ যুবকের মৃত্যু
প্রকাশিত : ২০:০৪, ২০ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন চার যুবক। একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
বুধবার বিকালে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় পুলিশ।
নিহতরা হলেন- গলানিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (১৮), নান্নু মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩৫), মোশারফ হোসেনের ছেলে ইমান হোসেন (৩৫) এবং পাশের ধরন্তি গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে আরমান (২১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলানিয়া গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ চলছিল। দুপুরের দিকে প্রথমে ট্যাংকের ভেতরে নামেন হৃদয় ও মেহেদী। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তাদের উদ্ধারে একে একে নিচে নামেন ইমান হোসেন ও আরমান। কিন্তু তারাও আর ওপরে উঠতে পারেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সরাইল ইউনিটের পাশাপাশি জেলা সদর থেকেও আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেলের শেষ দিকে ট্যাংক থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেউ ভাই, কেউ স্বামীকে খুঁজছেন, কেউ সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ বা স্বজনদের খবর দেওয়া হয়নি। সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলে হয়তো প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতো। এছাড়া ঘটনার পর থেকেই ভবনের মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিহতদের স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাস থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ
আরও পড়ুন










