শুক্রবার আসছে রূপপুরের জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তু
প্রকাশিত : ১৮:২৯, ১ অক্টোবর ২০২৬
সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এই জ্বালানি আমদানির সূচি কয়েক দফা পেছাতে হয়েছিল।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এটি বৃহস্পতিবার পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম নতুন এই সময়সূচি নিশ্চিত করেছে।
সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রথম ইউনিটের এই বাড়তি জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় কঠোর নিরাপত্তায় জ্বালানি পরিবহনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশের কর্তৃপক্ষ। তবে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কোন রুটে এই জ্বালানি আসবে তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। নির্ধারিত পথে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে চীন হয়ে এটি দেশে আনা হতে পারে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের কারিগরি ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য এসেছে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে কয়েক দফা চেষ্টার পর প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক চাপ প্রশমন ভালভের (অটোমেটিক প্রেশার ভালভ) প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১৬ মেগাপ্যাসকেলে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পারমাণবিক চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে কোনো কারণে চাপ বেড়ে গেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ভালভগুলো কাজ করে।
এর আগে সিস্টেমের জটিলতা কাটাতে নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়েছিল। এখন চূড়ান্ত ধাপের ১৮ মেগাপ্যাসকেলের পরীক্ষাটি বাকি রয়েছে। এই শেষ পরীক্ষাটি সফল হলেই কেন্দ্রটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অন্যদিকে, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। রোসাটমের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










