ঢাকা, রবিবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: গোলাম পরওয়ার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৪৯, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। এ সময় জোটের সমন্বয়ক ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংসদীয় সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তনের উদ্যোগকে তাঁরা নীতিগতভাবে সমর্থন করেন না। তাঁর দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, সেই পথেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। 

তিনি বলেন, বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের রাখার প্রস্তাব থাকলেও ১১ দলীয় ঐক্য শুরু থেকেই এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে। তাঁর ভাষায়, সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা ‘কনসেপচুয়ালি’প্রত্যাখ্যান করছেন।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও এর বিরোধিতা করেছিলেন।

সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই আলোচনায় ছিল। ২৯ এপ্রিল সরকারদলীয় পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে বিরোধী দল থেকে সদস্য না দেওয়ায় ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে ১১ দলীয় ঐক্য সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে তাঁরা অংশ নেবেন না। তাঁর দাবি, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা ছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম এবং গণভোটের মূল লক্ষ্যও ছিল রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার।

গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল।

তিনি বলেন, গণভোটে জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ব্যাখ্যা, এর মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি; সংস্কার বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছিল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের শরিক দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব তাদের দেওয়া হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া হয়নি।

জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে জাতীয় সংসদ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি জনগণের ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ বা গাঠনিক ক্ষমতা থেকে এসেছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংসদকে সৃষ্টি করেছে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করেনি। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। তাই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি একটি নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়াকে অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি