মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হবে গেম চেঞ্জার: তুরস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৫১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, জোটের সচিবালয়, সামরিক সদর দপ্তর ও প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান হাকান ফিদান। সাক্ষাৎকারটির বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
ফিদানের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দেশের মধ্যে জোট গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত শক্তিশালী। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তুরস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি চালু হলে জোটটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মক্কা জোটকে আনুষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ফিদান। চুক্তিতে নির্ধারিত সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এর সঙ্গে সামরিক সদর দপ্তর চালুর প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর মতে, এসব কাঠামোর পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন মূলত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সদর দপ্তরের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি বাকি রয়েছে।
ফিদান বলেন, জোটের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। জোটের প্রাথমিক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর অন্য দেশগুলোকে এতে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিদান বলেন, জোটকে বড় পরিসরে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে আগ্রহ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে যত বেশি সম্ভব দেশকে একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
তিনি জানান, এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য জোটটি উন্মুক্ত রাখার ধারণা রয়েছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কোনো বাইরের দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ফিদান। তাঁর মতে, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান খুঁজবে—এটাই জোটের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন সংকটের ঝুঁকি কমানো এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর জন্য আঞ্চলিক সমাধান বের করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনো সামরিক ব্লক তৈরি করার চেয়ে অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে এখনই অকার্যকর বা কেবল কাগুজে উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফিদান। তাঁর মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
সমালোচকদের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য তুরস্ক পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এসব মন্তব্যকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না।
ফিদান বলেন, জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে। তাঁর প্রত্যাশা, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার মতো একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










