ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ অক্টোবর ২০২৬

সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৫৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা হাইকোর্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, শুধু প্রতিবেশীদের মৌখিক বক্তব্য বা সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করার আগে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আইনগতভাবে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে গত আট আগস্ট থেকে আটকে রাখা এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশের বিরুদ্ধে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন।

আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কয়েকজন প্রতিবেশীর মৌখিক বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দপ্তর তথা এফআরআরও ওই ব্যক্তিকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছে।

বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, যথাযথ ও যাচাইযোগ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে শুধু সন্দেহের বশে একজন মানুষকে দুই মাস ধরে বন্দি রাখা যায়। আদালত ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে সরকারের নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে দাবি করেন, আটক ব্যক্তি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভারতের ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করে থাকতে পারেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, নথিপত্র জাল কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ, কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না।

ভারতে নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকা সংশোধন তথা এসআইআর এবং প্রায় তেরো কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি সামনে এলো।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি