ঢাকা, সোমবার   ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা: সাড়ে ১৩ বছর বন্দি এনামুলের জামিন চায় পরিবার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:২৮, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরাপত্তাপ্রহরী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীরের (এনামুল) জামিন চেয়েছে নিহত সাগর-রুনির পরিবার। এ হত্যা মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকা এ নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে সম্প্রতি পিবিআই (ঢাকা মেট্রো উত্তর)-এর এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫৮/এ/২ পশ্চিম রাজাবাজারের ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এনাম আহমেদ এ ভবনের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেই থেকে তিনি জেলহাজতেই আটক রয়েছেন।

বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তদন্তকালীন সময়ে অদ্যাবধি এ আসামির বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আদালতের আদেশের আলোকে গত ২২ এপ্রিল (২০২৬) কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনাম আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি, কোনকিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিয়েছেন। তদন্তে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকায় এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তাকে সাধারণ কয়েদিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় তার দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুনির ভাই নওশের আলম বলেন, এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক। এছাড়া কাউকে যেন কোনো প্রকার হয়রানি না করা হয়। আমরা চাই এনামুলকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেয়া হোক, তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এ মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। 

এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছিল র‍্যাব। র‍্যাবের তদন্তকালে প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছায় ১১২ বার। দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তারা। পরে এ মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টাস্কফোর্সকে মামলার তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি