সৌদিতে আরামকো ভবনে হুথিদের হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশিত : ০৮:৪৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
হুথিদের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে সৌদি বাহিনী। সেই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়লে চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় মূলত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে। জোটটি হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহ তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এর জবাবে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, সানায় আঘাত করা হলে রিয়াদে 'কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক' জবাব দেওয়া হবে। একই সাথে তিনি আরামকো সদর দপ্তর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' ঘোষণা করে সেখান থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন।
হুথিদের হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানী সানার আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় তীব্র বিমান হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সামরিক জোট। এছাড়া কৌশলগত রাস ইসা বন্দর এবং হোদেইদা প্রদেশের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অপর একটি তেল স্থাপনাতেও ড্রোন ও যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, হুথিরা এসব তেল ডিপো ও ভূগর্ভস্থ এলাকাকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের গোপন অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহার করছিল।
হুথি কর্মকর্তারা আগে থেকেই এই হামলার আশঙ্কা করায় সানার প্রধান তেল সংরক্ষণাগারগুলো আগেই খালি করে রাখা হয়েছিল। ফলে হামলায় তেলের মজুত নষ্ট না হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সানা শহরের পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় মুহূর্তের মধ্যেই শত শত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এদিকে আল-খারজ অঞ্চলেও হুথিদের ছোড়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট।
এমএইচ
আরও পড়ুন










