ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬

হিলিতে মাঠ জুড়ে ধান, আশায় কৃষক

হিলি প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:৩৭, ২৭ এপ্রিল ২০২১

Ekushey Television Ltd.

বিস্তির্ণ মাঠজুড়ে দুলছে ধানের শীষ, আর সেই ধানের শীষেই দোল খাচ্ছে হাজারো প্রান্তিক কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। দিনাজপুরের হিলিতে চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষিবিভাগ। মাঠের বেশীর ভাগ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে, আর সপ্তাহ খানেক সময় পরে ধান কর্তন শুরু হবে। তখন কৃষকের বাড়ির আঙিনা ভরে উঠবে সোনালী ধানের হাসিতে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ধান চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫শ’ ৩৩ হেক্টর জমিতে। গত আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার সেখানে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে ৭ হাজার ১শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে। যা থেকে চলতি বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৩শ’ ৪৭ মেট্রিক ট্রন।   

ইসামইলপুরের কৃষক মহসিন আলী জানান, গত আমন মৌসুমে ভালো লাভবান হওয়ায় এবার বোরো মৌসুমে বাড়তি জমিতে ধানের চাষাবাদ করেছি। আমন মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম এবার সেখানে ৭ বিঘা জমিতে চিকন জাতের বোরো ধান লাগিয়েছি। শুরুতে ধানের পাতা লাল হয়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও পরবর্তীতে কৃষি অফিসের পরামর্শে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এখন ধানের গাছ খুবই সুন্দর হয়েছে তাতে আশা করা যাচ্ছে, প্রতি বিঘায় ২০ মণের নিচে ফলন হবে না।

মালেপাড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, এবারে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ বা রোগ বালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ধান ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধান পাকতে শুরু করেছে, আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মাঠের সব ধান পেকে যাবে। এখন সুন্দরভাবে ধান ঘরে তোলার অপেক্ষা। প্রতিবিঘা ধানের উৎপাদন ব্যয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার মতো, এর উপর কর্তন খরচ রয়েছে। আশা করছি, সাড়ে ৯শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে ধান বেচাকেনা হবে। সরকারিভাবেও ১ হাজার ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে করে ধানের ভালো দাম পেলে আমরা সবখরচ বাদ দিয়ে লাভবান হতে পারবো।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে রোগের আক্রমণ দেখা দিলেও পরে ব্যবস্থা নিলে সেটি কেটে যায়। ইতোমধ্যেই মাঠের বেশিরভাগ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। ৮০ ভাগ পেকে গেলেই আমরা কৃষকদের ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকের উৎপাদিত ধান সঠিকভাবে কর্তনের জন্য ৩টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৩০ রিপার মেশিন দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য, বর্তমানে তাপমাত্রা বাড়তি হওয়ার কারণে যে ধান দেরিতে রোপণ করা হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে আমাদের এখানে যেহেতু বেশিরভাগই আগাম জাতের ধান, তাই সেগুলোতে তেমন একটা সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এএইচ/ এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি